অপেক্ষার অবসান। আজ সোমবার অগ্নিপরীক্ষা বাংলার। কড়া নিরাপত্তা আর টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার এমন তীব্র লড়াই আগে দেখেনি দেশ। সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রে শুরু হওয়া এই গণনার দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা ভারত।
প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং পরে ইভিএমের (EVM) ভোট গণনা করা হবে। দুপুর ১২টার মধ্যেই প্রাথমিক ট্রেন্ড স্পষ্ট হতে শুরু করবে। গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিউআর কোড (QR Code) যুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। ৪৩২ জন পর্যবেক্ষকসহ মোট ৬৭৪ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখছেন। প্রতিটি পদক্ষেপ রেকর্ড করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরায়।
নির্বাচনী সহিংসতা ও কারচুপির অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আজ ২৯৪টির বদলে ২৯৩টি আসনের ফলাফল ঘোষিত হতে চলেছে।
অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে এবং বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৪৮ আসন) পেতে পারে। যদিও তৃণমূলের দাবি, কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না-ও পেতে পারে। এদিকে, ইভিএম কারচুপির আশঙ্কায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কর্মীরা রাত জেগে স্ট্রং রুম পাহারা দিচ্ছেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও গত শুক্রবার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রং রুমে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
বিজেপিও কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। গণনা কেন্দ্রে কড়া নজরদারির জন্য দল ১২ হাজার সতর্কতা জারি করেছে। অন্যদিকে, ব্যবধান ৫০০-৭০০ ভোটের মতো হলে পুনরায় গণনার আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।