নাহিদ রানার গতিতাণ্ডব, ৯ বছর পর পিএসএল শিরোপা পেশোয়ার জালমির

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দীর্ঘ ৯ বছরের শিরোপাখরা কাটাল পেশোয়ার জালমি। ২০১৭ সালের পর অবশেষে ১১তম আসরে এসে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো বাবর আজমের দল, যেখানে ফাইনালে বড় ভূমিকা রাখলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা।

রোববার (৩ মে) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে নবাগত হায়দরাবাদ কিংসমেনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে পেশোয়ার। আগে ব্যাট করে ১৮ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে অলআউট হয়ে যায় হায়দরাবাদ। জবাবে ২৮ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় জালমি।

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন পেশোয়ারের বোলাররা। অস্ট্রেলিয়ান পেসার অ্যারন হার্ডি ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। তার সঙ্গে দুর্দান্ত সাপোর্ট দেন বাংলাদেশের গতি তারকা নাহিদ রানা, যিনি ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে শিকার করেন ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

নাহিদের আগমনের আগ পর্যন্ত ম্যাচে ভালো অবস্থানেই ছিল হায়দরাবাদ। প্রথম ৫ ওভারে ২ উইকেট হারালেও তারা তুলে ফেলে ৫৬ রান। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন নাহিদ।

নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই অস্ট্রেলিয়ার তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে গোল্ডেন ডাক উপহার দেন তিনি। শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে মিড-অনেই ধরা পড়েন ম্যাক্সওয়েল। একই ওভারে রানআউট হন কুশল পেরেরা। তাতে ৭৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে যায় হায়দরাবাদ।

পরবর্তীতে ১৪তম ওভারে আবার বোলিংয়ে এসে পুরো ওভারটি মেডেন দিয়ে হুনাইন শাহকে বোল্ড করে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন নাহিদ। তার গতির সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা।

শেষ পর্যন্ত সাইম আইয়ুবের ৫৪ রানের ইনিংস সত্ত্বেও ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ। অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেন করেন ২০ রান।

রান তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় পেশোয়ার। প্রথম ওভারেই ফিরে যান মোহাম্মদ হারিস ও বাবর আজম। দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে ৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।

তবে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ান অ্যারন হার্ডি ও আবদুল সামাদ। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৮৫ রানের জুটিতে ম্যাচ একতরফা হয়ে যায়। সামাদ ৪৮ রান করে আউট হলেও হার্ডি ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৬ রানে দলকে জয় এনে দেন।

১৫.২ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মাতে পেশোয়ার জালমি। ৯ বছর পর শিরোপা জয়ের এই আনন্দঘন মুহূর্তে বড় অবদান রেখে আলাদাভাবে নজর কাড়লেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা।