পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। গণনার আগেই বাতিল হলো ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সব ভোট।
শনিবার (২ মে) রাতে কমিশন জানায়, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে নানা অনিয়মের কারণে কেন্দ্রটির ২৮৫টি বুথের পুরো ভোট বাতিল করা হলো।
ফলে ৪ মে রাজ্যের ২৯৪টির বদলে ২৯৩টি আসনের ফল ঘোষণা হবে। ফলতার জন্য নতুন করে ভোট হবে ২১ মে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এই কেন্দ্রের গণনা ও ফলপ্রকাশ হবে ২৪ মে। কমিশনের ভাষায় এটি ‘রিপোল’ নয়, ‘ফ্রেশ পোল’।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল শনিবার রাত ৯টার পর এ সিদ্ধান্ত জানান। ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোটের দিন একাধিক বুথ থেকে অভিযোগ আসে। কোথাও ইভিএমে বিজেপির প্রতীক টেপ দিয়ে ঢাকা ছিল, কোথাও ব্যালট ইউনিটের বোতামে আঠা বা আতর লাগানোর অভিযোগ ওঠে। ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথ দখল এবং বুথে অবৈধভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতির অভিযোগও ছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে।
বিশেষ নির্বাচনি পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত সরেজমিনে ফলতা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে স্ক্রুটিনি রিপোর্ট জমা দেন। তার ভিত্তিতেই পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন করে ভোটের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। যদিও অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল মাত্র ৩০টি বুথ, তবু স্বচ্ছতার স্বার্থে ২৮৫টি বুথেই আবার ভোট হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রক্তপাতহীন ও সুষ্ঠু ভোট করাই তাদের লক্ষ্য। এবারের ভোটে রাজনৈতিক সংঘর্ষে কোনো মৃত্যু হয়নি, বুথেও বড় গণ্ডগোল দেখা যায়নি। ব্যতিক্রম শুধু ফলতা। তাই ১০০ শতাংশ স্বচ্ছভাবে নির্বাচন শেষ করতেই এই পদক্ষেপ।
১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৮ এ ধারায় বলা আছে, কোনো বিধানসভায় ব্যাপক গণ্ডগোল বা অসঙ্গতি দেখা গেলে কমিশন সেখানে নতুন করে ভোট করাতে পারে। এর আগে প্রার্থীর মৃত্যুতে পুনর্নির্বাচন হয়েছে, অশান্তিতে নির্দিষ্ট বুথে রিপোল হয়েছে। তবে অশান্তির কারণে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নতুন করে ‘ফ্রেশ পোল’ দেশের ইতিহাসে এই প্রথম।