আজ ১ মে, মহান মে দিবস। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে-মার্কেটে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন। সেই ঘটনার স্মরণে প্রতিবছর ১ মে বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ পালিত হয়। বাংলাদেশেও দিবসটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে নিয়োজিত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাত থেকে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে, যেখানে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন।

শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ প্রণয়ন করা হয়। আইনে দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মদিবস, সাপ্তাহিক ছুটি, ন্যূনতম মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইনটি কয়েক দফা সংশোধন করা হয়। তবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত, যাদের বড় অংশ শ্রম আইনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে সময়ে সময়ে মজুরি সমন্বয় করা হলেও নির্মাণ, পরিবহন ও গৃহকর্মী খাতে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো এখনও অনুপস্থিত।

বর্তমানে শ্রমবাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে অটোমেশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিগ ইকোনমি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের কারণে বিশ্বজুড়ে কাজের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে প্রথাগত কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে।

শ্রমিক কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আইএলওর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সংস্থাটির ৮টি মৌলিক কনভেনশনের মধ্যে ৭টি অনুসমর্থন করেছে। রপ্তানিমুখী শিল্পে আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখার বিষয়টি ক্রেতা দেশগুলোর নজরদারিতে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।

মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক সংগঠনগুলো র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।