স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচন হতে না দেয়, সে জন্য তারা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও সই করেছিলেন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে তিনি অবৈধ ও সংবিধানবহির্ভূত বলে দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বলেন, নির্বাচনের স্বার্থে তারা অনেক কথা সে সময় বলেননি।

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কারের জন্য শ্বেতশুভ্র কেশের আমার কিছু বড় ভাই বুদ্ধিজীবী বিদেশ থেকে অবতরণ করেছিলেন। তারা মাথায় টুকরি ভর্তি করে অলৌকিক কিছু সংস্কার নিয়ে দেশে অবতরণ করলে পরে সংস্কার কমিশনে আলাপ করে এই জুলাই জাতীয় সনদটা প্রণয়ন হয়েছে।

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় প্রথম সিদ্ধান্ত হয়েছিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধনের বিষয়ে। সেটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিনই ঠিক হয় নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই সনদ প্রণীত হবে। নোট অব ডিসেন্টসহই জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয়েছে। সেটা আপনারা স্বাক্ষর করেছেন। আমরাও করেছি।

জুলাই সনদ সইয়ের পর জারি করা বাস্তবায়ন আদেশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই আদেশ জারির পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে অবস্থান তুলে ধরেছিল। তারা বলেছিল, বিএনপি এবং যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে অন্য কিছু মানতে রাজি নয়।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ছিল ভেতরে বাইরে দুই দলের সমর্থনে। একদল ছিল যমুনার অভ্যন্তরে। আরেক দল ছিল যমুনার কিনারে। তারা এখন বলতে পারে, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকাল বাক্‌-ব্যক্তির স্বাধীনতার নামে যা চলছে, এটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, আমরা যদি নিজে নিজে নিয়ন্ত্রণ না হই, এই জাতিকে কোথায় নিয়ে যাব জানি না। কিছু আছে দেশে, কিছু আছে বিদেশে আর কিছু আছে ঘরের মধ্যে। মনে হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র বাক্‌স্বাধীনতা তাদেরই আছে। কাউন্টার করলে আরও গালিগালাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্ত্রী-কন্যাকে জড়িয়ে যেভাবে কুৎসিত কলঙ্কিত ধারা চলছে, এটা চললে আমরা বেশি দূর এগোতে পারব না। আমাদের কালচারটা নষ্ট হয়ে যাবে।