চট্টগ্রামের রাউজানে মাত্র ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে খুন হয়েছেন বিএনপির দুই কর্মী। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কাউসারুজ্জামান বাবলু নামে একজনের পর এবার নাছির উদ্দীন (৫৫) নামে আরও এক বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সবশেষ খুনের ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায়।
পরপর দুই হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাউজানজুড়ে। নিহত নাছির উদ্দীন উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসের পাড়ার বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত দুদু মিয়ার ছেলে। একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপি নেতা ও রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাতে নাছিরের বাড়ির পাশ থেকে গুলির শব্দ শুনে ছুটে যান আশপাশের লোকজন। সেখানে গিয়ে নাছিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তারা। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। কিন্তু, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাউজান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের একাধিক স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় মাটি কাটা, পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
পুলিশ জানায়, নিহত নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। কয়েক মাস আগেও দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।
এর আগে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় খুন হয়েছেন কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৬) নামে আরেক বিএনপি কর্মী। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, কাউসারুজ্জামান গত দুই বছরে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন। শুক্রবার রাতে তিনি নানাবাড়িতে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সাত থেকে আটজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর শনিবার ভোরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুইদিনের মধ্যে দুই খুনের ব্যাপারে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে তদন্ত চলছে। দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
চলতি বছরে রাউজানে এমন আরও একাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামে এক যুবদল কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে, ৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে গুলি করে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামে এক যুবদল নেতাকে। ওই দুই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।