প্রত্যেকটি জিনিসপত্রের দাম লাগামহীন মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। অন্যদিকে সরকার নির্বিকার রয়েছে। তাদের কোনো দায় নাই মনে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বেকারত্ব বাড়ছে। করোনার কারণে শিল্প কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই চলছে। নতুন কোনো শিল্পকারখানা নেই। মানুষের আয়ের, কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নাই। দিনমজুররা কাজ পায় না। বাজারে গেলে জিনিসপত্রের দামের এমন অবস্থায়, নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে।
তিনি আরও বলেন, ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই ১০ লাখ কোটি টাকা যদি দেশে বিনিয়োগ হতো তাহলে অনেক শিল্পকারখানা চলত। অনেক রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদিত হতো। কর্মসংস্থান হতো বলে মত দেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ওপার থেকে সীমান্তে একের পর এক গুলি করে পাখির মতো মানুষ মারছে। বর্ডার গার্ড নীরব, তাহলে অস্ত্র কেন? অস্ত্র দেশের মানুষকে মারার জন্য। জনগণের টাকায় অস্ত্র কেনে সরকার। সেই অস্ত্র ব্যবহার করে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে। অন্যায়ের প্রতিবাদ যারা করে তাদের বিরুদ্ধে। গণতন্ত্র যদি না থাকে তাহলে আইনের শাসন থাকে না, জবাবদিহিতা থাকে না। যখন গণতন্ত্র থাকে না, তখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে লাগামহীন। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে পড়ে টানাটানি।
সমাবেশে এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামসহ অনেকে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বলব, ভালো হয়ে যান৷ ভোটাধিকার ফেরত দিন। উন্নয়নের নাম করে জনগণের পকেট কেটেছেন। উন্নয়নের নামে জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করেছেন। তাই জনগণের মন আজ বিক্ষুব্ধ, উত্তপ্ত। যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটবে। এ বিস্ফোরণ ঠেকিয়ে রাখার ক্ষমতা সরকারের নাই।