চীনের গাঞ্জো বেসিন এলাকায় বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ডাইনোসরের ডিমের জীবাশ্ম। প্রায় আট কোটি বছর আগের লেট ক্রিটেসিয়াস যুগের এই বিরল জীবাশ্মটি নতুন এক রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে।

জাপানে ২০২০ সালে পাওয়া ৪৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের ডিমের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে চীনের গবেষকদের আবিষ্কৃত এই ২৯.৯৩ মিলিমিটারের ডিমটি এখন বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ডাইনোসরের ডিম হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

শুক্রবার(১৭ এপ্রিল) চীনা গণমাধ্যম সিনহুয়া তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ তিন বছরের নিরলস এবং জটিল গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা এই জীবাশ্মটিকে নতুন একটি প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। জিয়াংসি ভূতাত্ত্বিক জরিপ ইনস্টিটিউট এবং চায়না ইউনিভার্সিটি অব জিওসায়েন্সেস উহানের গবেষকরা এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। গবেষক দলটি এই বিশেষ প্রজাতির নাম দিয়েছে মিনিওলিথাস গাঞ্জোহুয়েনসিস। জীবাশ্মটি যে ডাইনোসরের ডিম সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষকরা স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপির মতো অত্যন্ত উন্নত এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছেন।

এই যন্ত্রের মাধ্যমে ডিমের খোসার ভেতরের অতি ক্ষুদ্র গঠন বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি থেরোপড গোত্রের উড়তে অক্ষম ডাইনোসরের ডিম। এই আবিষ্কারের বিস্তারিত ফলাফল গত বছরের অক্টোবর মাসে হিস্টোরিক্যাল বায়োলজি নামক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

চীনের গাঞ্জো বেসিন এলাকাটি জীবাশ্ম বিজ্ঞানীদের কাছে ডাইনোসরের ডিমের জীবাশ্মের জন্য বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে সুপরিচিত। গবেষকরা বলছেন এই অঞ্চল থেকে নিয়মিত প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলো প্রাচীন পৃথিবীর প্রাণিকুল সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছে। নতুন আবিষ্কৃত এই ডিমটির আকার অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এটি বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এত ছোট আকৃতির ডিম কোনো ডাইনোসরের হতে পারে তা একসময় অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে ডাইনোসরের প্রজাতিগুলো আকার ও আকৃতিতে কতটা বৈচিত্র্যময় ছিল।

এর আগে জাপানে আবিষ্কৃত ৪৫ মিলিমিটারের ডিমটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ডাইনোসরের ডিম হিসেবে মর্যাদা পেয়েছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়ে চীনের এই ২৯.৯৩ মিলিমিটারের ডিমটি এখন শীর্ষস্থান দখল করেছে। গবেষক দলের মতে এই আবিষ্কারটি ক্রিটেসিয়াস যুগের ডাইনোসরদের প্রজনন অভ্যাস এবং তাদের জীবনযাত্রার ধরন সম্পর্কে আরও গভীর গবেষণার পথ খুলে দেবে।

জীবাশ্মবিদরা মনে করছেন গাঞ্জো বেসিনের মতো দুর্লভ এই স্থানটিতে এখনও হয়তো লুকিয়ে আছে আরও অনেক অজানা ইতিহাসের পাতা যা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরও বৈজ্ঞানিক বিস্ময় নিয়ে আসতে পারে।