ঢাকার শ্যামলীতে কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের মালিকানাধীন সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামি ও তার দুই সহযোগীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এই আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন (৪২), তার দুই সহযোগী এমবি স্বপন কাজী (৩৬) ও মো. শাওন হোসেন (২৩)।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার শ্যামলীতে কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে যুবদল নেতার পরিচয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হাসপাতালটির অস্ত্রোপচারের কক্ষের ইনচার্জ আবু হানিফ এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
এতে মঈন উদ্দিনকে প্রধানের নাম উল্লেখ করে আরও সাত থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। মামলার পর মঈনসহ সাত জনকে গ্রেফতার করে র্যাব।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক চারজনের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তারা হলেন- মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. সুমন ও মো. লিটন মিয়া। চারজনই মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিনের সহযোগী।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার জানান, আজ মঈন ও তার দুই সহযোগীতে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. ছাব্বির আহমেদ। এ সময় আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী। শুনানি শেষে তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।
এদিকে, চাঁদাবাজির ঘটনার খবর গণমাধ্যমে আসার পর যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সিকেডি হাসপাতালে যান। তারা ঘটনায় জড়িত মো. মঈন উদ্দিনসহ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। গত শনিবার বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়। গত শুক্রবার রাতে তাঁরা ওই হাসপাতালে যান।
মো. কামরুল ইসলাম স্বল্প ব্যয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। করোনা মহামারির সময় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার প্রায় বন্ধ থাকলেও কিডনি প্রতিস্থাপন বন্ধ রাখেননি তিনি। এক হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন কামরুল ইসলাম।