ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর শারীরিক আঘাত নিয়ে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় তার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পায়েও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে চালানো ওই হামলায় নিহত হন তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তিনি সরাসরি জনসম্মুখে না এলেও অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে অংশ নিচ্ছেন।
তবে তার বর্তমান অবস্থা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। হামলার পর থেকে তার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। রয়টার্সও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত মাসে এক বিবৃতিতে বলেন, খামেনি আহত হয়েছেন এবং তার চেহারায় স্থায়ী বিকৃতি দেখা দিতে পারে। এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একটি পা হারিয়ে থাকতে পারেন।
ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে ‘জনবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— যে শব্দটি গুরুতর আহত যোদ্ধাদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থার কারণে মোজতবা খামেনির পক্ষে তার বাবার মতো দৃঢ় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে না। অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা বলেন,“তিনি প্রভাবশালী কণ্ঠ হতে পারেন, তবে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সময় লাগবে।
এদিকে দেশটি বর্তমানে এক সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে ইসলামাবাদে, একই সময়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও এসেছে।
সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা-কল্পনা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে— তিনি কোথায়, কেমন আছেন এবং কতটা কার্যকরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে তাকে জনসম্মুখে দেখা যেতে পারে। ততদিন পর্দার আড়াল থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত থাকবেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স