বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ করল তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের দ্বিপক্ষীয় ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ভয়াবহ হামলার প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বুধবার সকালে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ ও হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও পাল্টা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে সব সামরিক ইউনিটকে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এই ঘোষণার ফলে সকালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও লেবাননে হামলা শুরু হওয়া মাত্রই ইরান বাকি সব জাহাজের চলাচল স্থগিত করে দেয়।
মূলত যুদ্ধবিরতির আওতা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অস্পষ্টতাকেএই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে । এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অর্থাৎ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার লড়াইও বন্ধ থাকার কথা ছিল।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আজ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড়’ সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের সাফ কথা তাদের এই যুদ্ধবিরতি কেবল ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই হামলার পর ইরান ক্ষুব্ধ হয়ে পুনরায় নৌপথটি অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কয়েক শ তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভারত মহাসাগরে আটকা পড়ে আছে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলেছেন। তেহরান জানিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলে তারা এই শান্তিচুক্তি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে এবং পাল্টা আঘাত হানবে। ফলে ট্রাম্পের আলোচিত এই শান্তি প্রচেষ্টা এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।