জাপানের টোকিওতে ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও ২০২৬ (স্প্রিং)’ মেলার বিগ সাইটে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
৮ এপ্রিল (বুধবার) সকালে টোকিওতে বিগ সাইটের সাউথ হলে এ মেলা শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মেলায় বাংলাদেশের বৃহৎ পরিসরে অংশগ্রহণ এবং পণ্যের বাজার প্রসার ও রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এই সেমিনারটি আয়োজন করে।
সেমিনারে জাপানে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধির কৌশল ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন Japan External Trade Organization (JETRO) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা এবং সানকেই কো. লিমিটেডের গ্লোবাল অপারেশন ডিরেক্টর তেতসুরো কানো।
সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে কেবল একটি উদীয়মান অর্থনীতি নয়, বরং টেকসই এবং উচ্চমানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের এক বৈশ্বিক কেন্দ্র। আমাদের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ হিসেবে স্বীকৃত। জাপানি ভোক্তাদের গুণগত চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা এখন কাস্টমাইজড ডিজাইনের পোশাক, উন্নত মানের চামড়াজাত পণ্য এবং পরিবেশবান্ধব বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনে সক্ষম।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যকার ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (EPA) দুই দেশের বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। জাপানি ব্যবসায়ীরা যদি বাংলাদেশের এই বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা এবং দক্ষ জনশক্তির সুবিধা গ্রহণ করেন, তবে উভয় দেশই লাভবান হবে। আমরা জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের সাথে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার এবং আমাদের এই বৈচিত্র্যময় পণ্য সম্ভার আমদানি করার আহ্বান জানাই।
‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও’ মেলাটি আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। ১০ এপ্রিল টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে জেট্রোর সহযোগিতায় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে মেলায় আগত দর্শনার্থী ও জাপানি ব্যবসায়ীদের মাঝে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো’র আর্থিক সহায়তায় মেলায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যের ২৪ টি প্রতিষ্ঠান ২৬ টি স্টলে অংশগ্রহণ করছে।