বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৬৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে— ৪৬৫ গ্রাম স্বর্ণ, ১৬ হাজার ৬৭৮টি শাড়ী, ৬ হাজার ৫৬টি থ্রিপিস, শার্ট পিস, চাদর ও কম্বল, ৬ হাজার ৯৯৪টি তৈরী পোশাক, ৭৭২ মিটার থান কাপড়, ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬৪টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৯ হাজার ২৩৯ পিস ইমিটেশন গহনা, ৬৫ লাখ ২ হাজার ৪৫৭টি আতশবাজি, ৩ হাজার ৮২৯ ঘনফুট কাঠ, ৬ হাজার ২৫৯ কেজি চা পাতা, ২ হাজার ৯৮২ কেজি সুপারি, ৮ হাজার ৫৯০ কেজি কয়লা, ৭ হাজার ৯০ ঘনফুট পাথর, ২৩০ ঘনফুট বালু, ৩৮২টি মোবাইল, ১১ হাজার ৯০০ পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৭০ হাজার ৮১টি চশমা, ৫৩ হাজার ৯৮৮ কেজি জিরা, ২০ হাজার ৭২৩ কেজি চিনি, ৯ হাজার ৯৬১ প্যাকেট বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী, ২ হাজার ৩০৯ কেজি পিয়াজ, ১ হাজার ৮৭৯ কেজি রসুন, ১ হাজার ৯৪০ কেজি সার, ১ হাজার ৬১৪ প্যাকেট কীটনাশক, ২৯ হাজার ২১ পিস চকলেট, ১১টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, একটি বেলে পাথরের মূর্তি, আটটি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, ৪২টি ট্রাক্টর ও চাঁদের গাড়ি, ১৭টি পিকআপ, তিনটি প্রাইভেটকার, বাস, দুটি ট্রলি ও মাইক্রোবাস, ২০টি সিএনজি ও ইজিবাইক, ৪১টি মোটরসাইকেল এবং ২২টি বাইসাইকেল ও ভ্যান।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে— একটি এসএমজি, একটি বিদেশী পিস্তল, ১৩টি ম্যাগাজিন, ৩৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, দুইটি মাইন ও তিনটি অন্যান্য অস্ত্র।
এছাড়াও গত মাসে বিজিবি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে— ১১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮৪৫ গ্রাম হেরোইন, ১২ বোতল এলএসডি, ২ হাজার ৪৫ বোতল ফেনসিডিল, এক কেজি ৭৯০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৮ হাজার ১২৯ বোতল বিদেশী মদ, ১৭০ দশমিক ৫ লিটার বাংলা মদ, ২ হাজার ৩৬৮ বোতল ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ১৩৩ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৪০ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬১টি নেশা জাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, ৪ হাজার ৬৬৫ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ২ হাজার ৯৬৮টি এ্যানেগ্রা ও সেনেগ্রা ট্যাবলেট এবং ৩৬ হাজার ৮৬০ পিস মদ তৈরীর বড়ি ও ২১ লাখ ৪৪ হাজার ১৫২ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষধ ও ট্যাবলেট।
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১২ জন চোরাচালানী এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৮২ জন বাংলাদেশি নাগরিক, নয়জন ভারতীয় নাগরিক ও ৩১৭ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।