চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছেছে, যা সোমবার থেকেই কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে যেতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে এই প্রস্তাবের একটি খসড়া তৈরি করে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রস্তাবটিতে দুই ধাপের একটি প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে প্রথম ধাপে থাকবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত চুক্তি।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবটির অস্থায়ী নাম রাখা হয়েছে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবারের (৬ এপ্রিল) মধ্যেই এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি দ্রুত কার্যকর হতে পারে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। সেই চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এছাড়া, প্রস্তাবে ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইরানে বা যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে, প্রস্তাবটি নিয়ে পাকিস্তান ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শুধু সামরিক উত্তেজনাই কমবে না, বরং আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।