মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ কয়েক দশকের (৩৫ বছর) আধিপত্য কি তবে শেষের পথে? ইরাকের বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
রাজধানী বাগদাদে মার্কিন স্বার্থে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন দূতাবাস এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে শক্তিশালী আক্রমণের সম্ভাবনা দেখছে মার্কিন গোয়েন্দারা।
মার্কিন ভীতি ও দূতাবাসের সতর্কতা
বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত সুরক্ষিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জারি করা এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের উচিত অতি দ্রুত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ইরাক ত্যাগ করা। দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা এখন আর তাদের নেই। মূলত ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং কৌশলী হামলার সামনে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন কার্যত কোণঠাসা। ওয়াশিংটন এখন এতটাই ভীত যে, তারা নাগরিকদের কোনোভাবেই দূতাবাস বা কনসুলেটের ধারেকাছে না আসার পরামর্শ দিয়েছে।
ইরাক-ইরান অক্ষশক্তি: মার্কিন আধিপত্যের পতন
এই পরিস্থিতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইরাকের সাধারণ মানুষ এবং শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ইরানের দিকে ঝুঁকে পড়া। এক সময় সাদ্দাম পরবর্তী ইরাককে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রাখার যে নীল-নকশা ওয়াশিংটন তৈরি করেছিল, তা আজ ধূলিসাৎ। ইরাকি জনগণের একটি বড় অংশ এখন বিশ্বাস করে, মার্কিন সেনারা তাদের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং শোষণের জন্য অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফ্রন্ট’ (PMF)-এর মতো দলগুলো এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এই নতুন অক্ষশক্তি শুধু যে সামরিকভাবে শক্তিশালী তা নয়, বরং তারা বাগদাদের রাজপথ এবং নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও প্রভাব বিস্তার করছে।
ফলে মার্কিন ড্রোন বা বিমান হামলা এখন আর তাদের দমাতে পারছে না। বরং মার্কিন হামলার জবাবে মার্কিন সাংবাদিক শেলী কিন্ডসনের অপহরণ এবং দূতাবাসের চারদিকে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে ওয়াশিংটন এখন আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে চলে গেছে।
‘র্যাটলড’ ওয়াশিংটন: সময় ফুরিয়ে আসছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন এই সতর্কতা কোনো সাধারণ রুটিন মাফিক ঘোষণা নয়, বরং এটি তাদের চরম উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী মার্কিন অপহৃতদের খুঁজে পেতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা প্রমাণ করে বাগদাদের ওপর থেকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ কতটা শিথিল হয়ে পড়েছে। ৪৮ ঘণ্টার যে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে, তা কার্যত মার্কিন প্রশাসনের অসহায়ত্বকেই প্রকাশ করছে।
ইরাকের মাটি থেকে মার্কিনদের বিদায় নেওয়ার এই যে সুর ধ্বনিত হচ্ছে, তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিনদের ক্রমহ্রাসমান ক্ষমতার এক স্পষ্ট চিত্র।