মোস্তফা কামাল তোহা, প্রিয় আলোঃ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত কয়েক মাসে দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কেবল উত্তরাধিকার নয়, বরং তাঁর আধুনিক কর্মপরিকল্পনা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই ‘জেনারেশন জেড’ এবং তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
তরুণদের মাঝে তাঁর এই জনপ্রিয়তার নেপথ্যে প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ‘রেইনবো নেশন’ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য বা ‘রেইনবো নেশন’-এর ডাক দিয়েছেন। তিনি বারবার বলছেন, “দেশ কোনো একক দল বা ব্যক্তির নয়, দেশ সবার।” তাঁর এই উদারনৈতিক অবস্থান সেই সব তরুণদের আকৃষ্ট করেছে যারা দীর্ঘদিনের সংঘাতময় রাজনীতিতে ক্লান্ত ছিল।
২. আধুনিক কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল ইকোনমি
তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী ‘আইটি পার্ক’ এবং ‘ফ্রিল্যান্সিং হাব’ তৈরির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তাঁর সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, প্রতিটি জেলায় কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে যাতে তরুণরা বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর হতে পারে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করায় শিক্ষিত বেকারদের মাঝে বড় ধরনের ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।
৩. দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে শুরু হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সরকারের প্রতি আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪. তরুণদের সাথে সরাসরি সংযোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে তরুণদের খুব কাছে নিয়ে এসেছে। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সেক্টরের মেধাবী তরুণদের সাথে মতবিনিময় করছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের পরামর্শ গ্রহণ করছেন। সম্প্রতি ‘লিডারশিপ ফর ফিউচার’ শীর্ষক প্রোগ্রামের মাধ্যমে তৃণমূলের মেধাবীদের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করার উদ্যোগটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
৫. পরিবেশ ও শিক্ষা সংস্কার
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তাঁর ‘৫০ কোটি বৃক্ষরোপণ’ পরিকল্পনা এবং ঢাকার সবুজায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো পরিবেশ সচেতন তরুণ প্রজন্মের মন জয় করেছে। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এবং সেশনজট নিরসনে তাঁর সরকারের তড়িৎ পদক্ষেপ ছাত্রসমাজে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
বিশেষজ্ঞ মতামত: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. এম. আমানুল্লাহ বলেন, “তারেক রহমান নিজেকে একজন আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব নেতা হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘ নির্বাসন থেকে ফিরে এসে তিনি যেভাবে জনআকাঙ্ক্ষা বুঝতে পেরেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। বিশেষ করে তরুণরা তাঁর মাঝে এমন একজন নেতাকে দেখছেন যিনি অতীতের ভুল শুধরে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নির্বাচন পরবর্তী জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটারদের প্রায় ৭০ শতাংশই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তারেক রহমানের ওপর ভরসা রাখছেন। এই গণজোয়ার কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থন নয়, বরং একটি নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রতিফলন।