গাইবান্ধায় তিনদিন ধরে জ্বালানি তেল না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল চালক। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে তারা গাইবান্ধা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

 

এতে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্থানীয় রহমান অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চালকদের জ্বালানি তেল দিচ্ছে না।

এ কারণে তারা সোমবার (৩০ মার্চ) রাত থেকেই পাম্পের সামনে অবস্থান নেন। পরে কোনো সমাধান না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার সকালে সড়ক অবরোধ করেন।

এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানে ব্যাপক পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য জানিয়েছে সরকার।

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ডিজেল, যার পরিমাণ ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার। এছাড়া ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন এবং ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

 

একই সময়ে অবৈধ মজুদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসব ঘটনায় মোট ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

 

তিনি জানান, অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে সরকারের অভিযান চলমান থাকবে এবং জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানির বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা বিবেচনায় দেশে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিয়মিত মাসিক মূল্য সমন্বয় নীতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পরিবর্তন অনুযায়ী দেশীয় বাজারে সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে আমদানি ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনায় একটি ভারসাম্য বজায় থাকে।

 

সরকারের এই পদক্ষেপকে জ্বালানি খাতে আরও স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় নীতি কাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।