লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষ করে হাইফার দক্ষিণে অবস্থিত ইসরায়েলের শক্তিশালী ‘মিশমার আল-কারমেল’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা এই দফার অন্যতম বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননের আল-আদাইসা শহরের খানুক এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর সকাল ৮টা ১৫ মিনিট এবং ৮টা ২০ মিনিটে পরপর দুটি শক্তিশালী রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে সকাল ৬টার দিকে আভিভিম বসতিতে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করেও রকেট বর্ষণ করা হয়। হিজবুল্লাহর এই সাঁড়াশি আক্রমণ উত্তর ইসরায়েলের বসতিগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করেছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ৬টায় কিরিয়াত শমোনা এবং সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আল মালিকিয়া এলাকায় ইসরায়েলি সেনা ও তাদের সামরিক যানবাহনের ওপর রকেট হামলা চালানো হয়।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে এবং লেবাননের সীমান্ত রক্ষা করতে তারা এই অপারেশনগুলো পরিচালনা করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান বৃহত্তর যুদ্ধের অংশ হিসেবে লেবানন সীমান্ত এখন অন্যতম উত্তপ্ত ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।
হিজবুল্লাহর এই ধারাবাহিক রকেট হামলা ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে এবং উত্তর ইসরায়েলের অনেক এলাকা এখন কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
সার্বিকভাবে হিজবুল্লাহর এই ত্বরিত ও সুসংগঠিত হামলাগুলো নির্দেশ করে, গোষ্ঠীটি তাদের সামরিক সক্ষমতা পূর্ণ মাত্রায় ব্যবহার করছে।
বিশেষ করে হাইফার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিকটবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা ইসরায়েলের জন্য একটি বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তে পাল্টাপাল্টি গোলারষণ আরও তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পাল্টা কোনো বড় পদক্ষেপ নেয় কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।
সূত্র: আল জাজিরা