মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উত্তেজনা ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে (গার্ডিয়ান)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা তিনি আরও ১০ দিন পিছিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনায় কাজ করছেন। পাকিস্তানও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ইসরাইল ইরান ও লেবাননে হামলা চালাচ্ছে। ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, তেল আবিব ও উপসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বৈশ্বিক খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে (আল জাজিরা)।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদ প্রদেশ লক্ষ্য করে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হয়েছে, যার মধ্যে দু’টি ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

এ পর্যন্ত ৩৭৮টি ক্ষেপণাস্ত্র, ১,৮৩৫টি ড্রোন এবং ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে (সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, কুয়েত গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, জর্ডান সেনাবাহিনী)।

ইরানের পক্ষে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। হুতিরা উপসাগরীয় বন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করবে (আবাদ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, তাসনিম নিউজ)।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানে হামলা আরও তীব্র ও বিস্তৃত হবে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ৬০০-এর বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হতাহত হয়েছেন (জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ, ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা)।