কাবিউল আজিজ, কুষ্টিয়া:  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। তার প্রশাসনিক দক্ষতা, শিক্ষাবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা। সব মিলিয়ে তিনি ভিসি পদে একটি শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

প্রথমত, একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে অধ্যাপক ড. এমতাজ ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব সমস্যাগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। বিশেষ করে সেশনজট নিরসনে তার বাস্তবমুখী চিন্তাভাবনা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি মনে করেন, কঠোর নিয়মের বেড়াজালে আটকে না থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এই ধরনের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি একজন ভিসির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, শিক্ষকদের প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষক যদি ক্লাসমুখী না হন, তবে কোনোভাবেই শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ডিনদের ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাবও তিনি দিয়েছেন, যা বিকেন্দ্রীকৃত প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।

তৃতীয়ত, নেতৃত্বগুণের দিক থেকেও তিনি অনন্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো তার সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ দেয়। শুধু তাই নয়, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করে তিনি সংকট ব্যবস্থাপনায় নিজের সক্ষমতা দেখিয়েছেন। একজন ভিসির জন্য এই ধরনের সংকট মোকাবিলার দক্ষতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

চতুর্থত, তার জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা একটি বড় শক্তি। শিক্ষকদের মধ্যেও তিনি নেতৃত্বের আসনে ছিলেন এবং প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও শিক্ষক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়া তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে তার সংযোগ তাকে একটি সমন্বয়কারী নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরে।

তবে সমালোচনার জায়গাও রয়েছে। তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিশেষ করে বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কিছু মহলে প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ক্ষেত্রে তাকে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং শিক্ষা নিয়ে বাস্তবভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে। তবে চূড়ান্ত বিচারে তার নিরপেক্ষতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই নির্ধারণ করবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হতে পারবেন।