ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি  রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনরায় সচল করতে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে  জানিয়েছে কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদ আল-কাবি।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

সাদ আল-কাবি বলেন, “আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে কাতার এবং এই অঞ্চল এমন হামলার শিকার হবে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে আমাদেরই এক মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের কাছ থেকে এভাবে আক্রান্ত হওয়াটা ছিল আমাদের কল্পনারও বাইরে।”

তিনি আরও জানান, হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এতটাই বেশি যে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনে গ্যাস সরবরাহের নির্ধারিত চুক্তিগুলো রক্ষা করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’ এই দেশগুলোর সঙ্গে করা চুক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা অনিবার্য কারণবশত চুক্তি পালনে অক্ষমতা ঘোষণা করতে পারে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার এই দেশগুলোতে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘জ্বালানি যুদ্ধ’ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বৃহত্তম এই গ্যাসক্ষেত্রটির একটি বড় অংশ কাতারের মালিকানাধীন। ইসরায়েলি ওই হামলার তীব্র প্রতিশোধ নিতে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের ‘রাস লাফান’ এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস হাব হিসেবে পরিচিত। এই স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কেবল কাতার নয়, বরং পুরো বিশ্বের এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ইতিমধ্যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।