রাজধানীর সদরঘাটে এক লঞ্চের সঙ্গে আরেক লঞ্চের ধাক্কায় সোহাগ (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা এক নারী আহত হয়েছেন এবং অন্তত তিনজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ।
ওসি শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, সদরঘাটে এক লঞ্চের সঙ্গে আরেক লঞ্চের ধাক্কায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তঃসত্ত্বা একজন নারী আহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত তিনজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সম্রাট হাওলাদার জানান, বিকেল ৫টার দিকে একটি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে যাওয়ার সময় ব্যাকগিয়ার দিলে দুই লঞ্চের চাপে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা চাপা পড়ে। এতে এক যাত্রীর পা গুরুতরভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আরেকজন পিষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যান।
তিনি বলেন, ট্রলারটিতে তখন ৭-৮ জন যাত্রী ছিলেন। কিন্তু লঞ্চের নিচ থেকে নৌকাটি বের হওয়ার পর কোনো যাত্রীকে দেখা যায়নি—তারা কোথায় গেলেন, তা জানা যায়নি।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
সদরঘাট পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টার্মিনালে অবস্থান করা একটি লঞ্চে যাত্রী তোলা হচ্ছিল। এসময় পেছন থেকে আরেকটি লঞ্চ এসে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে পড়ে গুরুতর আহত হন দুজন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সজীব আহমেদ জানিয়েছেন, আহতদের একজন অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লঞ্চ দুটির চালক বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।