রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। এতে করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে বেড়েছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ। গাড়ির চাপ বাড়ায় যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই সড়কের গোড়াই, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল বাইপাস, রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা ও যমুনা সেতু পূর্ব পাড়ে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজনক। সড়কটির এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথায় যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। এতে মহাসড়ক বাড়ছে যানবাহনের চাপ৷ মহাসড়কের গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা পাচ্ছে যাত্রীরা। এতে নির্বিঘ্নেই যাত্রীরা যেতে পারছে৷ কিন্তু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চারলেনের কাজ চলমান থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘরমুখো হতে পারে সেজন্য ১ হাজার পুলিশ সদস্য চারটি সেক্টরে ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে গাড়ির চাপ বাড়ায় যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৫৮৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা। অপরদিকে উত্তরবঙ্গগামী ২০ হাজার ৭৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীত টোল আদায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আগের থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে । এর মধ্যে দুইপাশেই ২টি করে বুথ দিয়ে আলাদাভাবে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করে আসছে। বিগত সময়ে সেতুর টোল আদায় করে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস)। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর ২৪ সালের শেষের দিক থেকে বর্তমানে চায়না রোড ব্রিজ কর্পোরেশন টোল আদায় করছে।