সাঙ্গ হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। এবারের মেলায় ১৭ দিনে সর্বমোট ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সমাপ্তি ঘটে। সমাপনী দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ২৩৬টি, যা নিয়ে এবারের মেলায় মোট নতুন বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭টি।
এদিন বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা অ্যাকাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন করেন অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মেলার সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।
সদস্য সচিবের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এবারের মেলায় মোট ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ ৮ কোটি টাকা। সেই গড় হিসাবে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের ১৭ দিনের মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বাংলা একাডেমি গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ লক্ষ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে। উল্লেখ্য, মেলায় সকল প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে।
বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই, সরদার জয়েনউদ্দীন এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হয়।
এবার সর্বাধিকসংখ্যক গুণমানসম্মত গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছে ‘কথাপ্রকাশ’ প্রকাশনী। সেরা গ্রন্থের জন্য যৌথভাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছে ঐতিহ্য (কালি-কলম আর কাগজের অড রিসার্চ), প্রথমা প্রকাশন (শিলালিপি: বাংলার আরবি-ফারসি প্রত্নলেখমালা) এবং ইউপিএল (বরিশাল অ্যান্ড বিয়ন্ড)।
সেরা শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছে ‘পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.’। এছাড়া নতুন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুণগত বিচারে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছে ‘সহজ প্রকাশ’ এবং নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা হওয়ায় ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছে ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশন্স, মাত্রা প্রকাশ ও বেঙ্গলবুকস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ চাই যেখানে বৈচিত্র্যের মাঝেও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য আমাদের সন্তানদের আবার বইয়ের জগতে নিয়ে যেতে হবে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় পাঠাগার ও জ্ঞান প্রসারের জন্য আমাদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, যে বই পাঠককে মনের ভেতর থেকে জাগিয়ে তোলে, ন্যায়-অন্যায় বোধ জাগ্রত করে এবং রাষ্ট্র গঠনে ও উন্নত চিন্তা-চেতনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে, সেটিই মানসম্পন্ন বই।
অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম মেলা সফল করায় লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের ধন্যবাদ জানান। সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান মেলার পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য আরও আকর্ষণীয় আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।