ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের যে তফসিল ঘোষণা করেছে, সে অনুযায়ী রাজ্যটিতে ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল- এই দুই ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে।

দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে রবিবার (১৫ মার্চ) সাংবাদ সম্মেলনে এসে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গসহ চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তফসিল ঘোষণা করেন। অন্যগুলোতে এক দফাতে হলেও শুধু পশ্চিমবঙ্গে দুই ধাপে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্য দিয়ে বেজে গেল হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি টানা তিনবার ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে রয়েছেন। এবারও তার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে মাঠে রয়েছেন বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মাঠ কাঁপানো বক্তব্য দিতে স্বভাবসিদ্ধ শুভেন্দু এবারও আগের ধারা বজায় রাখবেন বলে এরই মধ্যে আভাস পরিষ্কার করে রেখেছেন।

শুভেন্দুর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি মাঠে বিজেপির হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির শীর্ষ নেতাদের ব্যাপক আনাগোনা দেখা যাবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে দুই ধাপে ভোটগ্রহণ হবে; প্রথম ধাপে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল। এই রাজ্যে প্রথম ধাপে ১৫২ আসনে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হবে।

রাজ্যের মোট ভোটার ৬ কোটি ৪৪ লাখ। এই রাজ্যে পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ২৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৩ কোটি ১৬ লাখ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ১৫২ জন।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার নির্বাচনের গেজেট নোটিফিকেশনের শেষ দিন ৩০ মার্চ। দ্বিতীয় দফার গেজেট নোটিফিকেশনের শেষ দিন ২ এপ্রিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপে মনোনয়নপত্র জমার দেওয়ার শেষ দিন যথাক্রমে ৬ এপ্রিল এবং ৯ এপ্রিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিন যথাক্রমে ৭ এপ্রিল ও ১০ এপ্রিল।

ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের পর পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে। বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গই দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে নির্বাচন হতে চলেছে।

খসড়া তালিকায় আগেই পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ লাখ নাম বাদ গেছে। এখন আরো ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। তারা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন করা নিয়ে আপত্তিও শোনা যাচ্ছে।

অবশ্য রবিবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, ‍“ইতিমধ্যেই এসআইআর হয়েছে পাঁচ রাজ্যে। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।”

পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা ভোট আট ধাপে হয়েছিল। এ বার দুই ধাপে কেন? সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জ্ঞানেশ বলেন, “কমিশন মনে করছে ধাপ কমানো প্রয়োজন। সবার পক্ষে সুবিধাজনক- এমন একটি পর্যায়ে এটি নামিয়ে আনা দরকার।”

আগামী ৪ মে সব বিধানসভার ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে।