আইকনিক হেভি মেটাল ব্যান্ড মোটরহেড-এর দীর্ঘদিনের গিটারিস্ট ফিলিপ অ্যান্থনি ক্যাম্পবেল মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।

রোলিং স্টোন ম্যাগাজিন জানিয়েছে, শনিবার ক্যাম্পবেল ও তার তিন ছেলেকে নিয়ে গঠিত ব্যান্ড ফিল ক্যাম্পবেল অ্যান্ড দ্য বাস্টার্ড সন্স-এর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা ঘোষণা করছি যে আমাদের বাবা ফিলিপ অ্যান্থনি ক্যাম্পবেল পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

একটি জটিল বড় অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন আইসিইউতে সাহসী লড়াইয়ের পর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ফিল ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী, অসাধারণ বাবা ও গর্বিত দাদু। পরিবারে তাকে স্নেহভরে ‘বাম্পি’ বলা হত। যারা তাকে চিনতেন, সবাই তাকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তার সংগীত, স্মৃতি ও লিগ্যাসি চিরকাল বেঁচে থাকবে। ”

ওয়েলসে জন্ম নেওয়া ক্যাম্পবেল ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে ব্রিটিশ হেভি মেটাল ব্যান্ড পার্শিয়ান রিস্ক গঠন করেন। পাঁচ বছর সেখানে কাটানোর পর ১৯৮৪ সালে লেমি কিলমিস্টারের ডাকে মোটরহেডে যোগ দেন তিনি।

ক্যাম্পবেল ব্যান্ডের সপ্তম অ্যালবাম অর্গাসম্যাট্রন (১৯৮৬) থেকে শুরু করে লেমির মৃত্যু (২০১৫) পর্যন্ত মোটরহেডের সঙ্গে ৩১ বছর কাজ করেছেন।

এই সময়ের মধ্যে তিনি ব্যান্ডের ১৬টি স্টুডিও অ্যালবামে অবদান রেখেছেন। জনপ্রিয় গানের রিফ যেমন ডেফ ফরএভার, ইট দ্য রিচ এবং বর্ন টু রেইজ হেল-এরও কৃতিত্ব তার।

মোটরহেড ভেঙে যাওয়ার পর ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ওল্ড লায়নস স্টিল রোর। এরপর ফিল ক্যাম্পবেল অ্যান্ড দ্য বাস্টার্ড সন্স ব্যান্ডের তিনটি অ্যালবাম বের করেন। ব্যান্ডটি এ বছর ইউরোপ সফরের পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শে তা বাতিল করা হয়।

২০২০ সালে মোটরহেডকে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেম-এ মনোনয়ন দেওয়া হলেও প্রথমে ক্যাম্পবেলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। শুধুমাত্র লেমি, ‘ফাস্ট’ এডি ক্লার্ক এবং ড্রামার ফিল ‘ফিলথি অ্যানিমাল’ টেলরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে ফ্যানদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণে ক্যাম্পবেল ও ড্রামার মিকি ডি-কে যোগ করা হয়।

১৯৯২ সাল থেকে ব্যান্ডের ড্রামারের দায়িত্ব পালন করা মিকি ডি শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তায় বলেন, ‘তিনি আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে মজার মানুষ এবং সেরা রক গিটারিস্ট। আমরা একসঙ্গে ১২টি স্টুডিও অ্যালবামে কাজ করেছি। তার প্রতিভা আমাকে সবসময় বিস্মিত করত। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মনের মানুষ। আমি তাকে খুব মিস করব। ’