মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছ। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি কার্গো জাহাজে আগুন লেগে গেছে এবং নাবিকরা জাহাজ ছেড়ে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে ইরান ছোট ছোট সমুদ্র মাইন বসাতে পারে বলেও খবর ছড়িয়েছে। আর তা সত্য হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আগুনে পুড়ছে। যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, জাহাজটির ক্রুরা জাহাজ ত্যাগ করার চেষ্টা করছেন এবং তারা সহায়তা চেয়েছেন।
এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান হয়তো হরমুজ প্রণালিতে ছোট ছোট সমুদ্র মাইন বসানো শুরু করেছে। তবে এসব তথ্য এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিকে নৌ চলাচলের জন্য নিরাপদ রাখতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে- তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
কারণ, চলমান সংঘাতের কারণে ওই এলাকায় কার্যত সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বারবার বেসরকারি কার্গো জাহাজ মালিকদের তাদের জাহাজকে প্রণালি পার করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এমন অবস্থায় প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ করতে যুক্তরাষ্ট্র আর কী করতে পারে, সেই প্রশ্নও এখন আলোচনায় এসেছে। তবে বাস্তবে সেখানে ঠিক কী ঘটছে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসিয়ে বা অন্যভাবে ফাঁদ তৈরি করে, তাহলে তা শুধু কোনও একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা