ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের একটি লজিস্টিক সহায়তা ক্যাম্পে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে এ হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক সহায়তা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ছোড়া হয়।
এর মধ্যে একটি ড্রোন ক্যাম্পের কাছে আঘাত হানে এবং বাকি কয়েকটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার সময় ক্যাম্পে অবস্থানরত কর্মীদের সতর্ক অবস্থায় যেতে বলা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের মতে, হামলার পরপরই ওই এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই হামলার পেছনে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলার ঘটনা বেড়েছে।
এদিকে একই সময়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও ইসরায়েলি হামলায় চারজন ইরানি কূটনীতিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি এক জরুরি চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে জানান, রোববার (৮ মার্চ) ভোরে বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ওই কূটনীতিকরা নিহত হন।
ক্রমবর্ধমান এই হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স