নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। একই সঙ্গে একটি রেকর্ড গড়েছেন সূর্যকুমার যাদবরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপার জেতার নজির গড়ল ভারত।

ফাইনাল ম্যাচে ৯৬ রানে নিউজিল্যান্ডকে হারায় তারা।

এছাড়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুবার করে শিরোপা জিতেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া একবার করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছে।

ফাইনালে ২৫৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ছয় ওভার শেষ হওয়ার আগেই তিন ব্যাটার ফিরে যান সাজঘরে। কিছুক্ষণ পর যোগ হয় আরেকটি উইকেট। আউট হওয়ার আগে ফিন অ্যালেন করেন ৯ রান, রাচিন রবীন্দ্র ১, গ্লেন ফিলিপস ৫ এবং মার্ক চ্যাপম্যান করেন ৩ রান।

দলের একের পর এক উইকেট পড়লেও ওপেনার টিম সেইফার্ট লড়াই চালিয়ে যান। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৬ বলে ৫২ রান করেন তিনি। দুটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো ছিল তার এই ইনিংস। এছাড়া ড্যারেল মিচেল আউট হওয়ার আগে করেন ১৭ রান।

এরপর দলনেতা মিচেল স্যান্টনার ছাড়া আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। স্যান্টনার ৩৫ বলে ৪৩ রান করেন। এছাড়া জেমস নিশাম ৮, ম্যাট হেনরি শূন্য, লকি ফার্গুসন ২ এবং জ্যাকব ডাফি ১ রান করে আউট হন।

এর আগে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভার দেখে-শুনে খেলেন ভারতের দুই ওপেনার। এরপরই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হন তারা। একের পর এক চার-ছক্কায় মাত্র ছয় ওভারেই বিনা উইকেটে ৯২ রান তুলে নেয় ভারত।

এ সময় মাত্র ১৮ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন অভিষেক শর্মা। তবে এরপর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। ২১ বলে ৫১ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার।

দ্বিতীয় উইকেটে ইশান কিষাণকে নিয়ে দারুণ জুটি গড়েন সঞ্জু স্যামসন। দুজনেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন। ফিফটি করার পর সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন স্যামসন। কিন্তু আগের দুই ম্যাচের মতো এবারও শতকের দেখা পাননি তিনি। ৪৬ বলে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৮৯ রান করে আউট হন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।

ইশান কিষাণও খেলেন ঝড়ো ইনিংস। চারটি চার ও চারটি ছক্কায় মাত্র ২৫ বলে ৫৪ রান করে তিনি সাজঘরে ফেরেন। তবে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সুবিধা করতে পারেননি। ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হন তিনি। আর হার্দিক পান্ডিয়া ১৩ বলে ১৮ রান করে ফেরেন।

শেষদিকে ঝড়ো ব্যাটিং করেন শিভাম দুবে। মাত্র ৮ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর তিলক ভার্মা ৬ বলে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন জেমস নিশাম। তিনি তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট হেনরি ও রাচিন রবীন্দ্র একটি করে উইকেট শিকার করেন।