ইরান থেকে নিজেদের কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজারবাইজান। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেহুন বায়রামুভ জানিয়েছেন, কূটনীতিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের একদিন আগে আজারবাইজানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ইরান থেকে আসা চারটি ড্রোন দেশটির সীমান্ত অতিক্রম করে নাখচিভান অঞ্চলে প্রবেশ করে। এতে অন্তত চারজন আহত হন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত আজারবাইজানের দূতাবাস এবং তাবরিজে থাকা কনস্যুলেট জেনারেল থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আজারবাইজানের দিকে কোনো ড্রোন হামলা চালানো হয়নি। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে, বিশেষ করে মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে আজারবাইজানের দিকে কোনো ধরনের ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়নি। যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয় বলেও জানিয়েছে তারা।
এর আগে, আজারবাইজান অভিযোগ করেছিল যে তাদের নাখচিভান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তারা ইরানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তবে তেহরান এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিবৃতিতে বলা হয়, একটি ড্রোন নাখচিভানের বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে আঘাত হেনেছে। এছাড়া আরেকটি ড্রোন শাকারাবাদ গ্রামের একটি স্কুলের কাছাকাছি এলাকায় পড়ে। হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এছাড়া এতে বিমানবন্দরে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
আজারবাইজান সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ড্রোনগুলো ইরানের ভূখণ্ড থেকে এসেছে। এ ঘটনায় তেহরানের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে বাকু। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।