ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে এবং ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে লড়ছে ইরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ও নিরাপত্তা বাহিনী। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ৬ দিন ধরে চলমান এ হামলা-পাল্টা হামলায় রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এই যুদ্ধের আঁচ গিয়ে লাগতে শুরু করেছে ইউরোপেও। একদিন আগেই তুরস্কের দিকে মিসাইল ছোঁড়ার পর এবার আজারবাইজানে ড্রোন হামলা করে বসেছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন আজারবাইজানের ভূখণ্ডে এসে পড়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি ড্রোন সরাসরি আঘাত হানে নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে। এছাড়া শাকারাবাদে একটি স্কুল ভবনের কাছেও আছড়ে পড়ে একটি ড্রোন।।

এসব হামলায় অন্তত দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের ভূখণ্ড থেকে চালানো এই ড্রোন হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। হামলায় বিমানবন্দরের ভবনের ক্ষতি হয়েছে এবং দুইজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

এদিকে উত্তর উপসাগরে মার্কিন ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে আইআরজিসির এই হামলা চালিয়েছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানায় আল জাজিরা।

আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। বাহিনীটি সতর্ক করে বলেছে, ‘যদি এসব জাহাজকে দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হবে।’