ইরান তুরস্কের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তেহরান জানিয়েছে, তুরস্কের সার্বভৌমত্বকে ইরান সম্মান করে।
এর আগে, গত বুধবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইরাক ও সিরিয়ার আকাশপথ অতিক্রম করে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে এগোচ্ছিল। পরে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ব্যালিস্টিক অস্ত্র, যা ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে যাচ্ছিল, সেটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিহত করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।’
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কোন জায়গা লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়।
তুরস্ক জানিয়েছে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। একই সঙ্গে আঙ্কারা সতর্ক করে বলেছে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে এবং সংঘাত আরও না বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশটি প্রয়োজনীয় সব সতর্কতা নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা যদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে বসবাস করতে চাই, তাহলে আমাদের প্রতিরোধক্ষমতা ক্রমাগত বাড়াতে হবে। এই কঠিন সময়ে আমাদের সীমান্ত ও আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না।
বুধবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ফোনে তার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রতিবাদও জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
অন্যদিকে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেচেন, ন্যাটো তুরস্কসহ সব মিত্রের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ কার্যকর হওয়ার শঙ্কা নেই। এই ধারা অনুযায়ী, ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলাকে জোটের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তুরস্কের ইনসিরলিক বিমানঘাঁটি মূলত তুর্কি বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটো মিত্রদের যৌথ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন অভিযানে এবং পরে আফগানিস্তান ও ইরাক অভিযানে এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ও বিমান সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি তুরস্ক। তবে ২০১৪ সাল থেকে আইএসবিরোধী অভিযানে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা