শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) ভোররাতে সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলার দায় ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ভারত থেকে আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়া শেষ করে ফেরার পথে ‘আইআরআইএস ডেনা’ নামের ইরানি ফ্রিগেটটি এই নজিরবিহীন হামলার শিকার হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই প্রথম কোনো শত্রু জাহাজকে টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনীর কমান্ডার বুদ্ধিকা সম্পথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা যখন দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন সেখানে যুদ্ধজাহাজটির কোনো চিহ্ন ছিল না। সমুদ্রের উপরিভাগে কেবল তেলের স্তর এবং কিছু লাইফ র‍্যাফট ভাসতে দেখা যায়। লঙ্কান নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকা ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানি ওই ফ্রিগেটটিতে আনুমানিক ১৮০ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে এখনো অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেকে নিরাপদ ভেবেছিল, কিন্তু মার্কিন সাবমেরিনের নিখুঁত টর্পেডো হামলায় সেটি তলিয়ে গেছে।

হেগসেথ আরও দাবি করেন, ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো শত্রু দেশের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে টর্পেডো ব্যবহার করল।

উদ্ধার হওয়া ৮৭টি মরদেহ ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কার উপকূলে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লঙ্কান নৌবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তাল সমুদ্রে নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে জাহাজের ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যাওয়ায় এবং অন্ধকার ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।