যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সেনাপ্রধান এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রধান উপদেষ্টা নিহত হয়েছেন।

রবিবার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সিএনএনের।

ইরনার খবর অনুসারে, শনিবারের (২৮ ফেব্রুয়ারি) হামলায় অ্যাডমিরাল আলি শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। আলি শামখানি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব ছিলেন। অন্যদিকে, মোহাম্মদ পাকপুর ছিলেন অভিজাত বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার।

ইরানের ক্ষমতার অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন আলি শামখানি। তিনি কয়েক দশক ধরে ইরানের শাসনব্যবস্থায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে টানা দশ বছর তিনি ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি আইআরজিসি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইসরায়েল তাকে হত্যার দাবি করেছিল, কিন্তু পরে জানা যায় তিনি বেঁচে আছেন। গত বছরের শেষ দিকে তিনি আবারো প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরে আসেন।

শামখানি ২০০১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওয়াশিংটন এবং ইউরোপের পররাষ্ট্রনীতি মহলে তিনি ইরানের একজন উদীয়মান কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আলোচনায় তিনি তেহরানের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, যার ফলে দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটে। তবে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাকে আকস্মিকভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বহাল ছিলেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিতেন।

গত বছর ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসির প্রধান হোসেন সালামি নিহত হওয়ার পর মোহাম্মদ পাকপুরকে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।

১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর আইআরজিসি গঠিত হওয়ার পরপরই পাকপুর এতে যোগ দেন। শীর্ষ পদে আসার আগে তিনি আইআরজিসির পদাতিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রবিবার সকালে এক বিবৃতিতে আইআরজিসিরি একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার জানান, আইআরজিসির কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনো কমান্ডারের ‘শাহাদাত’ বা মৃত্যুর পরপরই তৎক্ষণাৎ তার স্থানে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিযুক্ত করা যায়।

ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ এলিট শাখা, যা কেবল দেশটির সর্বোচ্চ নেতার কাছে জবাবদিহি করে। বিদেশে শত্রু দমন এবং দেশের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ দমনের মূল দায়িত্ব এই বাহিনীর ওপর ন্যস্ত।