অপহরণের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদক্ষেপে এক স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম (২৩), ইশরাক ইয়ামিন লিখন (২০), হাসান আল বান্না ওরফে হাসলাম (২১) ও মোস্তাফিজ রহমান পুঞ্জ (২২)।
পুলিশ বলছে, ওই চক্রে ১০-১২ জন রয়েছে। তারা উঠতি বয়সী তরুণদের মাদকসহ বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে।
গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে অভিযোগ করেন তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ খবর শুনেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বলেন। এর দুই ঘণ্টার মধ্যে খিলগাঁওয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা হয়। তবে সেদিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ডিসি মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা আসামিদের সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
ভুক্তভোগী ছেলেটার কাছে কিছু বর্ণনা শুনেছি, আর আশপাশের সিসিটিভি ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি।
এই চক্রে ১০-১২ জন আছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে যে ভিডিও পেয়েছি, সেগুলো দেখে আঁতকে ওঠার মতো। তারা কাউকে টার্গেট করে টোপ দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে বিভিন্নজনকে নক করে মাদকের কথা বলে। কখনো বলে এখানে আসলে মাদক পাবে।
কিছু আছে বিভিন্ন বাহানা, মেয়েদের সঙ্গে গল্প করা যাবে, এরকম বলে। এই ছেলেটাকেও কিছু একটা বলে টেলিগ্রামে নক করেছে। বলেছে, আসো একটু কথাবার্তা বলবো। কোনো একটা লোভ বা প্রলোভন দেখিয়েছে, আর ছেলেটাও ট্র্যাপে পা দিয়েছে।
ডিসি মাসুদ আরও বলেন, ওই স্কুলছাত্রের স্কুল বন্ধ ছিল, বাসা থেকে সাইকেল নিয়েই সেদিন সে গিয়েছিল। আশা করছি, জড়িত বাকিদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।