স্কুল-কলেজে মুসলিম মেয়েদের হিজাব পরা নিয়ে প্রতিদিনই উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে ভারতের কর্ণাটকে। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন ‘দঙ্গল’ কন্যা জায়রা ওয়াসিম।

শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, হিজাব ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয়, এই ধারণাটাই ভুল। নিজেদের সুবিধার্থে অথবা অজ্ঞতা থেকে এই মতবাদ দাঁড় করানো হয়েছে। হিজাব পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়, ইসলামে এটি বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে। যে নারী হিজাব পরেন, তিনি সর্বশক্তিমানের প্রতি সমর্পিত থাকার প্রতিশ্রুতি পালন করছেন।

জায়রা আরও লেখেন, কৃতজ্ঞতা এবং বিনয়ের সঙ্গে হিজাব পরিহিত একজন নারী হিসেবে আমি এই গোটা প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধী, যেখানে ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি পালনে নারীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং হেনস্থা করা হচ্ছে।

জায়রা ওয়াসিম লেখেন, মুসলিম মেয়েদের প্রতি এই বিরূপ আচরণ, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষা এবং হিজাবের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলা হয়, তা চূড়ান্ত অবিচার। নিজেদের বিশেষ উদ্দেশ্যর সঙ্গে খাপ খাইয়ে, তার জন্য মুসলিম মেয়েদের নির্দিষ্ট করে একটি বেছে নিতে বলা হচ্ছে। তার পর নিজেদের তৈরি ফাঁদে ফেলে আবার সমালোচনাও করা হচ্ছে তাদের। অন্য উপায়ে এটা করা যাবে না। এটা বিরূপ আচরণ ছাড়া অন্য কিছু নয়।

নারীর ক্ষমতায়নের নামে মুসলিম মেয়েদের প্রতি এই আচরণ একেবারেই কাম্য নয় বলে জায়রা লেখেন, নারীর ক্ষমতায়ন বলতে যা বোঝায়, এই ঘটনায় তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

পর পর সফল ছবি উপহার দেওয়ার পর যখন প্রচারের আলোর কেন্দ্রে তিনি, সেই সময় ২০১৯ সালে অভিনয় এবং গ্ল্যামার জগৎ থেকে বিদায় নেন জায়রা। তার জন্য সেইসময়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তার পর ধীরে ধীরে নেটমাধ্যমে দেখা দিতে শুরু করেন তিনি। এ বার কর্নাটকের হিজাব বিতর্ক নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন জায়রা।

এর আগে, শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কর্ণাটকের শিবমোগা জেলায় হিজাব নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় একটি স্কুলের ৫৮ ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই হিজাব খুলে কলেজে প্রবেশ করতে বলায় রাজ্যের তুমাকুরুর জৈন পিইউ কলেজের চাঁদনী নামের এক ইংরেজি প্রভাষক চাকরি ছেড়ে দেন।

গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কর্ণাটকের বিভিন্ন স্কুল কলেজে হিজাব পরে ক্লাস করার অনুমতির দাবিতে আন্দোলন করছেন মুসলিম ছাত্রীরা। অন্যদিকে হিন্দু শিক্ষার্থীরা গেরুয়া ওড়না পরে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু করেছেন।

কর্ণাটকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে গত মাসে উদুপি জেলার সরকারি বালিকা পিইউ কলেজে ছয়জন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বসতে বাধ্য করার পর। সেই সময় কলেজ প্রশাসন জানায়, ইউনিফর্মের অংশ নয় হিজাব এবং ওই ছাত্রীরা কলেজের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ছাত্রীদের ক্লাসে হিজাব পরার বিষয়ে আপত্তি জানায় স্থানীয় ডানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও তাদের ছাত্র সংগঠন।

উদুপির এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যের মান্দিয়া এবং শিভামোগগা এলাকায়। সেখানকার কলেজ কর্তৃপক্ষ হিজাব নিষিদ্ধ করে। যদিও আইনে হিজাব পরে মুসলিম ছাত্রীদের ক্লাসে আসতে কোনও বাধা নেই।

এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি কিছু ছাত্রী হিজাব পরে কর্ণাটকের একটি কলেজে আসলে এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ছাত্রীরা হিজাব পরে আসায় কলেজের শতাধিক ছাত্র গেরুয়া চাদর পরে কলেজে আসে। এ সময় ছাত্রীদের কলেজ গেটেই আটকে দেওয়া হয়।

সূত্র : এবিপি আনন্দ