জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৮ মাসে রাষ্ট্র সংস্কারে গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো নিয়ে ‘রিফর্ম বুক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সংস্কার কার্যক্রমের একটি সংক্ষিপ্ত ও তথ্যসমৃদ্ধ চিত্র এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পায়। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন দেশ ছিল চরম অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয়ের মুখে। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।
বইটিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ মাসে সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন ও সংশোধিত আইন প্রণয়ন এবং ৬শটিরও বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ৮৪ শতাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।
অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দাবি করা হয়েছে এই বইয়ে। বিশেষ করে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে ৭ হাজার ৪০০ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক হার ৩৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনাকে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সব আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিতর্কিত ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং র্যাবের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ করার বিষয়টিও বইটিতে স্থান পেয়েছে।
প্রেস উইং জানায়, ১৬ বছরের জঞ্জাল ১৮ মাসে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও দেশ এখন সঠিক পথে রয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করা হয়েছে। বর্তমানে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে, যা সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
২০২৪ সালের সেই সাহসিকতার চেতনাই আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার মূল পথনির্দেশক হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।