ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে ঘিরে চলমান বিক্ষোভ দুই সপ্তাহের কাছাকাছি পৌঁছেছে। শনিবার এ আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়েছে। কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও দেশটির জনগণ পিছপা হচ্ছেন না।

ইন্টারনেট বন্ধ ও ফোন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ইরান কার্যত প্রযুক্তিগত ও তথ্যগতভাবে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। যে কারণে বিদেশ থেকে বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিরাপত্তা বাহিনীর হতাহতের খবর প্রচার তাদের মতো করেই প্রচার করছে। তারা দাবি করছে, পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শনিবার দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবে, তাদের ‘সৃষ্টিকর্তার শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের আইনে এটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যারা বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করছে বা দাঙ্গায় সহযোগিতা করেছে, তারাও একই অভিযোগের মুখোমুখি হবেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিক্ষোভকারীরা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তারা বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে দ্রুত ও বিচার শুরু করার ভিত্তি তৈরি করা হবে। তাদেরকে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই মামলাগুলোর বিচারে কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় দেওয়া হবে না।’

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।’

সূত্র: এপি