বলিউডের ইতিহাসে এক অদ্ভুত এবং শোকাবহ গল্প হল অভিনেত্রী লায়লা খানের জীবন ও মৃত্যুর ঘটনা। ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণকারী রেশমা প্যাটেল পরবর্তীতে লায়লা খান নামে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেছিলেন এবং ২০০৮ সালের ‘ওয়াফা: আ ডেডলি লাভ স্টোরি’ ছবির মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
রাজেশ খান্নার সঙ্গে অভিনীত এই ছবিটি নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে ওঠে-বিশেষত ছবির ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো নিয়ে। রাজেশ খান্না যখন ষাটের কোঠায়, লায়লা তখন ছিলেন কুড়ির শেষ প্রান্তে, যার ফলে তাদের বয়সের বিশাল ব্যবধান এবং দৃশ্যগুলোর সাহসিকতা সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করে। যদিও ‘ওয়াফা’ ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়নি, তবুও লায়লা খান তার অভিনয় ক্যারিয়ারে যথেষ্ট প্রশংসা লাভ করেন।
‘ওয়াফা’র পর লায়লা খান কিছু ছোট বাজেটের ছবিতে অভিনয় করলেও সেইসব ছবির মধ্যে কোনো একটি ছবিও তাকে চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। ‘যব লাভ হুয়া’, ‘তুম হো মেরে দিল কী ধন’, ‘দিল কি তামান্না’-এই সব ছবি বক্স অফিসে ভালো ফলাফল করতে ব্যর্থ হয়। ধীরে ধীরে লায়লা পর্দা থেকে আড়ালে চলে যান এবং তার উপস্থিতি চলচ্চিত্রজগতে একেবারেই সীমিত হয়ে পড়ে।
লায়লা খানের অস্বাভাবিক নিখোঁজ হওয়া ঘটনার পর, নানা গুঞ্জন শোনা যায়। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়, লায়লা এবং তার পরিবার কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ রাখতেন, যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-অর্থায়নের অভিযোগ ছিল। সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, লায়লা কাশ্মীরে ভ্রমণ করেছিলেন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বলে গোপন তদন্ত চলে।
২০১১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি লায়লা খান ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে যে, এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন লায়লার সৎ বাবা পারভেজ তাক। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারভেজ তার মেয়ে লায়লা এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছেন এবং হত্যার কারণ হিসেবে পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করেন।