ভূমিকা: বিগত ৫৪ বছর আমাদের রাজনীতি বাংলাদেশকে এক অসুস্থ সংস্কৃতি উপহার দিয়েছে। মাঝি বিহীন নৌকার মতো দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাবে আজ বাংলাদেশ অন্ধকার চোরা গলিতে পথ খুঁজে পাচ্ছে না। সুশিক্ষা ও নৈতিকতা বিবর্জিত রাজনীতিবিদ, অসাধু আমলা, ব্যবসায়ী ও সুশিল সমাজ গোটা দেশটাকে দুর্নীতি ও অপশাসনের বেড়াজালে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে। জবাব দিহিতা, ন্যায় বিচার ও ইনসাফকে যাদুঘরে পাঠিয়ে রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। এই প্রμিয়ায় বিগত ১৫ বছরে পিলখানা হত্যাকান্ড, গুম, খুন, শাপলা চত্বর গণহত্যার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম হয় এবং ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই এর এক সফল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যার পতন হয়। তথাকথিত বেশী উনড়বয়ন ও কম গণতন্ত্রের তত্ত্ব দেখিয়ে ন্যায় বিচার, ইনসাফ ও আইনের শাসন যাদুঘরে নির্বাসিত হয়। ফলশ্রুতিতে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট ও ব্যাংক লুটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়। ধনি গরিবের বৈষম্য আরো প্রকট হয়।

কোটা আন্দোলন থেকে এক দফার আন্দোলনঃ
সরকারী চাকুরীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য কোটার প্রচলনকে ঘিরে যখন বঞ্চিত, মেধাবী সংক্ষুব্ধ ছাত্র/ছাত্রীরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে, তখন আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগের উস্কানী আন্দোলনকে আরো তীব্র করে। এরই মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কতৃক আন্দোলনরত ছাত্র/ছাত্রীদের রাজাকারের নাতি-পুতি বলে ট্যাগ দিলে সেটা জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিবেশ তৈরী করে। অবশেষে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে। সরকার ১ দফার আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থা নিয়োজিত করে। এমনকি আন্দোলন বানচালে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ”র” এর অপারেশন ডেল্টা সেভেনও নিয়োজিত হয় বলে সম্প্রতি ”আমার দেশ” পত্রিকা লীড নিউজ প্রচার কর্।ে কিন্তু ”রাখে আল্লাহ্ মারে কে”। ফুলে ফেঁপে এক দফার আন্দোলন অগিড়বমূর্তি ধারণ করলে সেনাবাহিনী ছাত্র জনতার উপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তখন আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। উপায়ন্ত না পেয়ে ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যায়। নজির বিহীন ৩৬ দিনের আন্দোলনে ১৪০০ শত ছাত্র/জনতা সহ কিছু পুলিশ সদস্যও শহীদ হয়। পংঙ্গুত্ব বরণ করে বিশ থেকে তিরিশ হাজার ছাত্র জনতা। বর্তমানে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ নেতা জেলে বিচারাধীন থাকলেও সিংহভাগ সম্মূখ সারির মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামীলীগ নেতারা ভারত সহ পৃথিবীর বিভিনড়ব দেশে আশ্রয় নিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারঃ
৮ আগষ্ট ২০২৪ নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। গভীর উদ্বেগের সাথে আমরা প্রত্যক্ষ করলাম প্রফেসর ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কিছু উপদেষ্টা বিতর্কিত ও অনভিজ্ঞ। এই অবস্থায় গণহত্যার বিচার, ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের সংস্কারসহ এই সরকারের উপর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়। প্রফেসর ইউনুসের প্রতি যেমন জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ১৮ কোটি জনতার সমর্থন ছিল, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেরও সমর্থন ছিল। কিন্তু শুরু থেকে পতিত সরকারের তল্পি বাহক কিছু আমলা, পুলিশ, আনসার এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নজীরবিহীন অসহযোগীতা ও শত সহস্র আন্দোলনের মুখে পড়েন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সাথে বড় রাজনৈতিক দল গুলোরও অসহযোগীতা ছিল দৃশ্যমান। অন্তর্বর্তী সরকারকে দেড় বছর সময়ে ছোট বড় ১৫০০ (পনর শত) আন্দোলন মোকাবেলা করতে হয়েছে। সবকিছু মোকাবেলা করেও সরকার বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনী কার্যμম যুগপৎ ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সংস্কার প্রμিয়ার অংশ হিসাবে জাতীয় পার্টি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওমীলীগ ছাড়া সবকটি রাজনৈতিক দল প্রায় ছয় মাসের আলাপ/আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর করেছে (এনসিপি ছাড়া)। ছাত্র/জনতার আইনী সুরক্ষা দিতে প্রফেসর ইউনুস সংবিধান সংশোধনে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ জারি করেছেন। অতি সম্প্রতি গণভোট অধ্যাদেশ জারি করেছেন। অন্যদিকে গণহত্যার দায়ে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা করেন। অর্থাৎ শত বাধা বিপত্তি ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অন্তবর্তী সরকার তার লক্ষ্য অর্জনে যুগপৎ কাজ করে যাচ্ছেন।

নির্বাচন ২০২৬ – আমাদের করণীয়ঃ
বর্তমানে বিচার, সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি যুগপৎভাবে চলমান। প্রফেসর ইউনুস বলেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উৎসব মূখর নির্বাচন হবে ২০২৬ সালে। কিন্তু সেই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি যেন আমাদের স্বস্তি দিচ্ছে না, তেমনি আইন শৃংখলা প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশও আমাদের স্বস্তি দিতে পারছেনা। যদিও বিগত পনেরো মাস সেনা বাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতা নিয়ে মাঠে ছিল, কিন্তু তা আইনশৃংখলা রক্ষায় যথার্থ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি। আগামী নির্বাচনে সেনা বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতা দেয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নি:সন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। অন্যদিকে শোনা যায় ভারত শেখ হাসিনার মৃত্যুু দন্ড মেনে নিতে পারছে না, আরো জানা যায় আগামী নির্বাচনের আগেই ভারত তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারে।

তারা প্রফেসর ইউনুসকে পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেবে, আর এসময় ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে পূনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে চাইবে। এই অবস্থায় দেশবাসীকে আবারো তরুন প্রজন্মের সেই বিপ্লবী স্লোগান স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি ”আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয় নাই যুদ্ধ”, ”পিছনে পুলিশ, সামনে স্বাধীনতা”। প্রতিবিপ্লবীরা অত্যন্ত কার্যকর ভাবে সμিয় রয়েছে। তারা সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রতিবিপ্লবীরা লুকিয়ে আছে অসাধু আমলা, পুলিশ, বিচারক, রাজনীতিবিদ, নামধারী সুশীল সমাজ ও অসাধু কিছু সাংবাদিকের মাঝে। জুলাই আকাংখার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে পাহাড় সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই বিশ্বাসঘাতকেরা।

তাই এই নির্বাচন প্রফেসর ইউনুসের জন্য একটি অগিড়ব পরীক্ষা। বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে এই নির্বাচনকে নিরাপদ, নির্বিঘড়ব, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা এই সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চ্যালেনঞ্জ। তাই এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে সরকারকে, নির্বাচন কমিশনকে, প্রশাসনকে এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সকল বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সমূহকে একটি নজীরবিহীন সমনড়বয়ের মাধ্যমে নিখুঁত ভোটার তালিকা প্রস্তুতি সহ সকল নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পনড়ব করতে হবে। নির্বাচনকে নির্বিঘড়ব করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান বেগবান করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে সকল রাজনৈতিক দল সহ দেশ প্রেমিক ছাত্র জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে পুরো বাংলাদেশকে তার অস্তিত্ব রক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই এ। মনে রাখতে হবে ”দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার হে লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার”।

জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ঃ কেন অতীব গুরুত্বপূর্ণ
জুলাই বিপ্লবে আমাদের সন্তানেরা তাদের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে সেটা দিয়ে রং-তুলি কিনেছে এবং বাংলাদেশের শহর, বন্দর, গ্রামে, গঞ্জে দেয়ালে দেয়ালে ব্যানার, ফেস্টুনে ছবি এঁকেছিল তারা কেমন বাংলাদেশ পেতে চায়। অর্থাৎ তারা দেখতে চেয়েছিল ন্যায়, ইনসাফ, আইনের শাসন, দক্ষতা, যোগ্যতা ও মেধার স্বীকৃতি। তারা দেখতে চেয়েছিল ধনী গরিবের পার্থক্য নিরসনে সুষম উনড়বয়ন ও একটি মানবিক বাংলাদেশ। নতুন প্রজন্মের এই স্বপড়ব বাস্তায়নে অন্তর্বর্তী সরকার তার সীমিত সাধ্য নিয়ে যুগপৎ অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। চলমান বিচার প্রμিয়া, আইনের শাসন, সুষম উনড়বয়ন ও একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার একটি যুগোপযোগী মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবকাঠামোগত প্রশাসনিক সংস্কার ও জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রনয়ন অত্যন্ত জরুরী। এই নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসাবে স্বাধীন পুলিশ কমিশন, সশস্র বাহিনী ও বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের আমুল সংস্কার প্রয়োজন।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন সহ এই সব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে পারে কেবল মহান জাতীয় সংসদের নির্বাচিত জাতীয় প্রতিনিধিগণ। তাই জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন আমাদের সমগ্র জাতির সামনে একটা বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। এ সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। তাই এই জাতীয় নির্বাচনে বারো (১২) কোটি ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে তাদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সংস্কারের পক্ষে গণ ভোটে অংশ নেয়া এবং দক্ষ, সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে দায়িত্বশীল ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রতিটি ভোটারের জন্য একটি ঈমানী দায়িত্ব। তা নাহলে নতুন প্রজন্মের দেয়ালে আঁকা স্বপড়বগুলো কখনোই আলোর মুখ দেখবে না। কারণ এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া মানে ভারত, আওয়ামী লীগ সহ দেশ বিরোধী চμকে তাদের অশুভ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উৎসাহিত করা।

নির্বাচন ২০২৬ – যোগ্য নেতৃত্বের সন্ধানে 
বিগত ১৫ বছর এদেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাই নেতৃত্ব বাছাইয়ের এই নির্বাচন আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। আঠার থেকে পঁয়ত্রিশ বছরের তরুনরা এই নির্বাচনে প্রথম তাদের ভোট প্রদানের সুযোগ পাবে। তাই, আমি তোমাদের আন্তরিক অভিন্দন জানাই। আমরা জানি বিগত ৫৪ বছরে রাজনীতিবিদদের ব্যক্তি ও দলীয় হীন স্বার্থে অদূরদর্শী, অপেশাদার নেতৃত্বের কারনে বাংলাদেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সামরিক বাহিনী সহ আমলা তন্ত্র, বিচার বিভাগ ও পুলিশ বিভাগে কোন সংস্কার হয়নি। বাংলাদেশ বিনির্মাণে অতীব জরুরী প্রয়োজন ছিলো যুগোপযোগী একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা, তা হয়নি। অর্থাৎ নতুন আকাংখার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এখনো অনেক কাজ বাকী। এ ছাড়া জুলাই বিপ্লবে ছাত্র/জনতা হত্যার বিচার চলমান। অর্থাৎ আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আগামী সংসদ নির্বাচন আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই বিপ্লবে আমাদের সন্তানেরা বাংলাদেশের শহরে ও গ্রামে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দেয়ালে দেয়ালে আগামীর কাংখিত স্বপেড়বর বাংলাদেশ নিয়ে অনেক স্বপড়ব এঁকেছিল। সেই স্বপেড়বর সফল বাস্তবায়ন করতে, দূর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে, এই মহান সংসদে কোন চোর, বাটপার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীকে পাঠানো যাবে না। অর্থাৎ সুশিক্ষিত, অভিজ্ঞ, দেশ প্রেমিক, দক্ষ, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরী করতে হলে আমাদের বারো কোটি ভোটারের প্রত্যেককে দায়িত্ব নিতে হবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে। কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্তের কাছে পাঁচ বছরের জন্য দেশটিকে লীজ দেয়া যাবে না। ভোট বিμি করা যাবে না। মনে রাখবেন যারা ভোট কিনবেন, তারা এই বিনিয়োগ আগামী পাঁচ বছরে সুদে আসলে উঠিয়ে নিবেন। আর আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও এর দাম পরিশোধ করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার সুচিন্তিত একটি ভোট যেমন দেশকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনতে সাহায্য করবে, তেমনি আপনার একটি ভুল সিদ্ধান্ত দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে। দেশ রূপান্তরের আগামী নির্বাচনে তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দেশের জ্যেষ্ঠ ও নবীন ভোটারদের প্রতি আমার আবেদন রইলো:

জ্যেষ্ঠ নাগরিক
মনে রাখবেন:-
১. বৈষম্যহীন সমাজের অঙ্গিকার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজকে “না” বলার হাতিয়ার।
২. দক্ষ, সৎ ও যোগ্য প্রার্থী, নতুন প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ দাবী।
৩. ভোট বিμি করবেন না – দেশকে ইজারা দেবেন না। কারন, বিনিয়োগকারী পাঁচ বছরে তা সুদে আসলে তুলে নেবে।
৪. এমন প্রার্থী বেছে নিন, যিনি দেশকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে যাবে।
৫. ভোট শুধু অধিকার নয়, দায়িত্বও, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন, দেশ গঠনে অংশ নিন।
৬. আপনার একটি ভুল সিদ্ধান্ত দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে।

নবীন ভোটার (ভোটাধিকার অর্জনের জন্য তোমাকে অভিনন্দন), 
মনে রেখো:-
১. তুমি শুধু নতুন ভোটার নও – তুমিই হতে পারো পরিবর্তনের কারিগর।
২. ট্রান্সফরমেশন চাও? – তবে দক্ষ, সৎ ও যোগ্য ব্যাক্তিকে ভোট দাও।
৩. তুমি গেম-চেঞ্জার হতে পারো – তোমার ভোট দেশ বদলে দিতে পারে ।
৪. যৌবনই শক্তি – অংশ নাও ভোটে, শক্তি কাজে লাগাও।
৫. শত ভাগ নিশ্চিত হয়ে ভোট দাও – যেন কেউ তোমার কণ্ঠ রূদ্ধ করতে না পারে।
৬. ভোট ব্র্যান্ডের নয় – যোগ্যতাকে বেছে নাও।

উপসংহার:
২০২৪ সালের জুলাই এ কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা ১ দফার আন্দোলনে রূপান্তর হয় এবং ৫ আগস্ট/৩৬ জুলাই সরকার পতনের মধ্য দিয়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিষ্ট শাসনের অবসান হয়। গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার, ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের সংস্কার এবং একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন যুগপৎ কাজ করছে। এই জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক। এখানে জনগনের যেমন গণভোটে অংশ নিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি নির্বাচনে দক্ষ, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের সংসদে পাঠিয়ে পরবর্তী সরকারকে চলমান বিচার , প্রশাসনিক সংস্কার ও জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সমাপ্ত করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের গুরু দায়িত্বও রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে ১২ কোটি ভোটারদের এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন, সংস্কার প্রμিয়া বাস্তবায়নে গণভোট প্রদান, দক্ষ, সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা একটি পবিত্র নাগরিক দায়িত্ব।

 

লেখক: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মোহসীন, এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি (অব.)