বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। গত ৪৮ ঘণ্টায় তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলেও নতুন কোনো অবনতি দেখা যায়নি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তাকে সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সুরক্ষা দিয়ে দেখভাল করা হচ্ছে।
হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন বৈঠক করে তার চিকিৎসা-পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছেন। বিভিন্ন জটিলতা বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে সিসিইউ থেকেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজ নেন।
ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে তারা সিসিইউতে প্রবেশ না করলেও বাইরে থেকে তার অবস্থার খোঁজ নিয়ে ফিরে আসেন।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন,
“ম্যাডামের অবস্থায় এখনো তেমন উন্নতি নেই। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে চেষ্টা করছেন।”
বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার জানান, খালেদা জিয়া এখনও সিসিইউতেই আছেন এবং তার সার্বিক অবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন নেই। তিনি আরও বলেন—
“ম্যাডামের অবস্থা ভালো নয়। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”
ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন সার্বক্ষণিক হাসপাতালে অবস্থান করছেন এবং খালেদা জিয়ার সব চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ করছেন। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন গুলশানের বাসা থেকে তার জন্য খাবার পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতালে খালেদা জিয়ার পাশে আছেন তার ছোটপুত্রবধূ সৈয়দা শামিলা রহমান, যিনি প্রায় সারাদিনই সিসিইউর নিকটেই অবস্থান করছেন।
দুর্বল শারীরিক অবস্থা, বয়সজনিত জটিলতা এবং পূর্ববর্তী দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিএনপি এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক মহল বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।