নিজস্ব প্রতিবেদক : ইউনিয়ন পরিUnion-Parisad-Nirbachonষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় সৃষ্ট ‘সহিংসতা ও ভোট জালিয়াতি’র জন্য নির্বাচন কমিশনারদের দায়ী করে তাদের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি।

 

একই সঙ্গে দল নিরপেক্ষ লোকের কাছে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব দিয়ে একে ঢেলে সাজানোরও দাবি করেছে দলটি।

 

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ দাবি করেন। এ দিন ৭১৭টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রথম দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকাল থেকে ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীনরা নির্বিঘ্নে ব্যালট পেপারে সিল মেরেছে, বিএনপির নেতাকর্মী, প্রার্থী, এজেন্টদের ওপর হামলা, মারধর করেছে। তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সহায়তায় নির্বাচনী এলাকায় এই ধরনের তাণ্ডব করেছে শাসক দলের নেতাকর্মীরা।’

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না মন্তব্য করে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া বের করার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

 

ইসির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন এই নির্বাচন কমিশন জালিয়াতির ভান্ডারিতে পরিণত হয়েছে। কারণ এত অভিযোগ, এত প্রতিবাদ, এত সন্ত্রাসী ঘটনা এবং সর্বোপরি প্রশাসনযন্ত্রের নির্লজ্জতায় আওয়ামী ক্যাডারদের তান্ডবের পরও তারা চোখ বন্ধ করে রেখেছ।’

 

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশন সোমবার বলেছেন- নির্বাচন অবাধ হবে। কিন্তু হয়নি। যখন নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না বা করতে পারছেন না, তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন, তখন পদত্যাগ করছেন না কেন? পদত্যাগ করলে দৃষ্টান্ত হতো যে, সন্ত্রাস-তান্ডব এবং অপকর্মের বিরুদ্ধে একজন হলেও পদত্যাগ করেছেন।’

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ‘ কি এমন চাকরির মায়া। ..কত টাকা পান। গোটা দেশ, জনগণ, জাতির ভোটাধিকার সবকিছুই দুমড়ে-মুচড়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর আপনারা নীরব নিশ্চুপ দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। জনগণের পক্ষে এবং মানুষের হারানো গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ করলে দেশের ভোট ব্যবস্থার এই ভগ্নদশা থাকত না।’

 

ইসি তার সাংবিধানিক শক্তি প্রয়োগ না করে, তা উপেক্ষা করছে- অভিযোগ করে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ইসির নিজস্ব যে শক্তি আছে, সংবিধান তাকে যে শক্তি দিয়েছে বা যে আইন আছে; যেগুলোকে তারা উপেক্ষা করছেন। এর বিপরীতে ইসি সরকারের এজেন্ডা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।’

 

‘বিতর্কিত এবং ভোট জালিয়াতি’র নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীলরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ্ত হবেন- উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছেও নির্লজ্জ এইসব নির্বাচনের জন্য তারা কলঙ্কিত হয়ে থাকবেন।’

 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব শাহজাদা মিয়া, সহ দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।