নুরুল ইমরান, বরিশাল: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার মেঘনা, বাউশিয়া, মুলাদীর নয়া ভাঙ্গলি, হাইমচর, আলিগঞ্জ এবং চাঁদপুর মোহনা নদীজুড়ে চলছে মা ইলিশ ধরার মহোৎসব।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও চলমান মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সত্ত্বেও এসব নদীতে প্রতিদিনই প্রকাশ্যে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু অভিযান চলমান থাকা সত্ত্বেও ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা ও এর শাখা-প্রশাখা নদীগুলোতে জেলেরা উল্লাসের মধ্যেই জাল ফেলছে। নদীর ঘাটে ঘাটে ইলিশ ধরা, বিক্রি ও মজুতের ব্যস্ততা চোখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আলম নিজ দায়িত্বে কিছু সীমিত অভিযান পরিচালনা করলেও তা মূলত নামমাত্র।
তিনি ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ড্রোন নিয়ে নদীতে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন সাধারণ জেলেকে আটক করে ১৬ থেকে ১৮ দিন করে সাজা দিয়েছেন।
অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতা করে বড় আকারে মা ইলিশ ধরা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, অভিযানের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রচারের চেষ্টা করলে প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে তাঁরা তা প্রকাশ করতে পারছেন না।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য কর্মকর্তা আলম স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগসাজশে নিজের ইচ্ছেমতো অভিযান পরিচালনা করছেন।
কোস্টগার্ড সদস্যরাও জানিয়েছেন, তাঁরা মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ীই অভিযান পরিচালনা করেন।

এদিকে হিজলা ও আশপাশের এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ইলিশ মজুদ করছেন।
বাউশিয়া, নয়া ভাঙ্গলি, হাইমচর, আলিগঞ্জ ও চাঁদপুর মোহনাসহ নদীর পাড়ে পাড়ে ছোট-বড় ক্রেতা-বিক্রেতারা ব্যস্ত ইলিশ কেনাবেচায়।

অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আলমের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি নিজের অর্থায়নে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধিকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়ে নদীতে ‘ফাঁকা মেঘনা’ দেখিয়ে লাইভ প্রচার করিয়েছেন।

এদিকে বরিশাল শহর থেকে হিজলা মৎস্য অফিসে অতিরিক্ত দুইজন কর্মকর্তা পাঠানো হলেও তাঁদেরকে অফিসেই বসিয়ে রাখা হয়েছে।
আজ ১২ অক্টোবর পর্যন্ত হিজলা অঞ্চলের নদীগুলোতে পুলিশ, কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর কোনো কার্যকর অভিযান দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সরকার ঘোষিত অভিযানের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।