দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফিলিস্তিনের গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হামাসের কাছ থেকে নিজেদের ৭ জন নাগরিককে ফিরে পেয়েছে ইসরায়েল।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকালেই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)। উভয় পক্ষের বন্দিদের মুক্তি তদারকির কাজ করছে তারা। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তি পাওয়া এই ৭ ইসরায়েলির সবাই পুরুষ। এদের নাম জিভ বেরমান, গালি বেরমান, এইতান মোর, মাতান আঙ্গরেস্ত, ওমরি মিরান, গাই গিলবোয়া-দালাল এবং অ্যালন ওহেল বলে জানা গেছে।
টানা দুই বছর ফিলিস্তিনিদের ওপর অমানবিক আগ্রাসন চালানোর পর গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল। চলতি সপ্তাহ থেকে কার্যকর হয় এই যুদ্ধবিরতি। এরপর এই প্রথম ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির ঘটনা ঘটল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের এক হামলার জবাবে গাজায় অমানবিক সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। জিম্মি মুক্তি ও হামাস উৎখাতের নামে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে ইসরায়েলি বাহিনী। ভয়াবহ এই সামরিক আগ্রাসনে গাজায় গত দুই বছরে ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার বাহিনী। লাগাতার হমলায় আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি।
গত দুই বছরে বেশ কয়েকবার এই আগ্রাসন থামানোর চেষ্টা চলেছে। সেসব চেষ্টার অংশ হিসেবে কয়েক দফা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিও ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। সেসব যুদ্ধবিরতির সময় বেশ কিছু জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস; তার পরও প্রায় ৪০ জন জিম্মি অবশিষ্ট ছিল তাদের হাতে। তবে, কাগজে ৪০ জন জিম্মি থাকলেও তাদের মধ্যে জীবিত আছেন ২০ জন।
সবশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব আকারে পেশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস উভয়ে সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোর পর গত শুক্রবার থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় গাজায়।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা মেনে জীবিত ২০ জন জিম্মির মধ্যে থেকে ৭ জনকে আজ সোমবার মুক্তি দিলো হামাস। জীবিত ২০ জনের নামের তালিকা এর আগেই ইসরায়েলকে দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে রোববার (১২ অক্টোবর) ঘোষণা এসেছে, হামাসের হাত থেকে সব জিম্মির মুক্তি নিশ্চিতের পরই ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেবে তারা।