গাজীপুরের টঙ্গীতে রাসায়নিকের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ছয় দিন পার হলেও এখনও কোনো মামলা হয়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

শনিবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক খন্দকার জান্নাতুল নাঈম মারা যান। এ নিয়ে এ ঘটনায় প্রাণ হারালেন মোট চারজন, যার মধ্যে তিনজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য।

পুলিশের অবস্থান

টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহিদুল হাসান বলেছেন, “দুই-একদিনের মধ্যেই মামলা হবে।” তবে এতদিনেও মামলা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— আইনি প্রক্রিয়া কেন বিলম্বিত হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের পটভূমি

২২ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর সাহারা মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় একটি রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১২টি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কিন্তু গুদামে বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।

মামলা কেন জরুরি?

আইন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত মামলা করা জরুরি কয়েকটি কারণে—

  1. দায় নির্ধারণ: কার অবহেলায় বা অবৈধভাবে দাহ্য রাসায়নিক মজুত ছিল তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
  2. ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা: এমন অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
  3. ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ: নিহত ও আহতদের পরিবার যেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পায়, তার জন্য আইনি প্রক্রিয়া অপরিহার্য।
  4. দৃষ্টান্ত সৃষ্টি: দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্যরা সচেতন হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা কমবে।

দাবি

টঙ্গীর রাসায়নিক গুদামের অগ্নিকাণ্ড শুধু কয়েকটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং ফায়ার সার্ভিসের জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালনের করুণ বাস্তবতাও সামনে এনেছে। মামলার মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।