উত্তাল গোপালগঞ্জ: এনসিপির সমাবেশস্থলেও আগুন, সবাইকে ছুটে যাবার আহ্বান সারজিসের

Sarjish alam
২৭

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলায় শহরের পৌরপার্ক এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। জেলার চৌরঙ্গী মোড়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে এখন।

আজ বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সমাবেশ শেষে ফেরার পথে চৌরঙ্গী মোড়ে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে দুই পাশ থেকে হামলা ও ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়।

এরপরপরই ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এসে হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালায়। তবে কিছুক্ষণ পর তাদেরকে সেখান থেকে ডিসি অফিসের দিকে যেতে দেখা যায়।

হামলাকারীদের সরিয়ে দিতে উপস্থিত শতাধিক পুলিশ সদস্য ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তেও দেখা গেছে।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সমাবেশ শেষে মঞ্চে আগুন ও চেয়ার ভাঙচুর করেছে দিয়েছে হামলাকারীরা। পাশাপাশি অনেকগুলো তোরণেও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, গোপালগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রেখেছে হামলাকারীরা। তাতে বিভিন্ন জায়গায় আটকা পড়েছেন এনসিপির নেতারা।

এর মধ্যে চৌরঙ্গী মোড় থেকে এনসিপির গাড়ি বহরের কয়েকটি যানবাহন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দিকে চলে গিয়েছে। সেসব গাড়িবহরে কারা রয়েছেন, তা জানা যায়নি। তারাও হামলার শিকার হতে পারেন বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, গোপালগঞ্জে খুনি হাসিনার দালালেরা আমাদের ওপরে আক্রমণ করেছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে নাটক দেখছে, পিছু হটছে। আমরা যদি এখান থেকে বেঁচে ফিরি তাহলে মুজিববাদের কবর রচনা করেই ফিরবো, না হয় ফিরবো না।

সারা বাংলাদেশের মানুষকে গোপালগঞ্জে ছুটে আসতে আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

সমাবেশের আগেও সমাবেশস্থলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তখন পুলিশের ভূমিকা পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপি নেতারা। এছাড়া, সকালে ইউএনও ও পুলিশের গাড়িতেও হামলা করা হয়।