শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া অডিও নিয়ে আসিফ নজরুলের পোস্ট

Img 20250709 171733
৩৩

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যে, তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে বিক্ষোভকারীদের গুলি করার জন্য সরাসরি অনুমতি দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার উপযুক্ত বিচার অবশ্যই হবে বাংলাদেশে।

বুধবার (৯ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ বিচারের কথা বলেন তিনি।

অডিও রেকর্ড প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উপদেষ্টা তার পোস্টে লিখেন, শেখ হাসিনার ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা গেছে, গত বছরের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি তিনি নিজেই দিয়েছিলেন।

54561256 20250709 150820533

তিনি আরও বলেন, বিবিসি আইয়ের যাচাই করা ওই রেকর্ডিং অনুসারে, শেখ হাসিনা তাঁর নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার’ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং বলেছেন ‘তাঁরা (এসব বাহিনীর সদস্যরা) যেখানেই তাঁদের (আন্দোলনকারী) পাবেন, গুলি করবেন।

পোস্টের শেষে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, শেখ হাসিনার উপযুক্ত বিচার অবশ্যই হবে বাংলাদেশে।

এদিকে, জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। ১০ জুলাই এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।

সোমবার (৭ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী শুনানি করেন।

এ ছাড়া এ মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে, গত ১ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিচার শুরুর আবেদন করে প্রসিকিউশন। তার পূর্বে গত ১২ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনে রিপোর্ট দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এই তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যার উসকানি প্ররোচনা, নির্দেশ দেওয়া সংক্রান্ত সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি এবং জয়েন্ট ক্রিমিনাল ইন্টারপ্রাইজের ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।