জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক বৃহস্পতিবার

Img 20250114 230543
৩২

আগামী বৃহস্পতিবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করবে অন্তর্বর্তী সরকার। কী থাকবে সেই ঘোষণাপত্রে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও ঐকমত্য হয়নি। তবে বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্য সব অভ্যুত্থানের শক্তি জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে একমত, এমনটাই জানিয়েছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ৮টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ বৈঠকের কথা জানান। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা মাহফুজ বলেন, খসড়া ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার সব রাজনৈতিক দল ও পক্ষের সঙ্গে সরকারের সংলাপ হবে। সেখানে নিশ্চয় একমত হওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আলোচনার স্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে এই উপদেষ্টা বলেন, রাজনীতির মাঠে জাতীয় পার্টির অবস্থান আমাদের কাছে পরিষ্কার। এখন পর্যন্ত কোনো বৈঠকে তাদের আমরা ডাকিনী। তাই ঘোষণাপত্র বিষয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলা আমরা যৌক্তিক মনে করছি না। আর বাম দলগুলোর মধ্যে অনেক সংগঠন আছে, তবে গণঅভ্যুত্থানে যেসব দল প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, আরও হবে। আমরা চাইবো সবারই রিপ্রেজেন্টেটিভ রাখতে।

উল্লেখ্য, অনেক আগে থেকেই জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ (ঐক্যের জন্য যাত্রা) ডাক দেয় সংগঠনগুলো। সেখানেই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিল।

বিষয়টি টের পেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং তখন জানায়, এই উদ্যোগের সঙ্গে সরকার সম্পৃক্ত নয়। এর একদিন পর ৩০ ডিসেম্বর রাতে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের একটি ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর পরেই জুলাই ঘোষণাপত্রের কর্মসূচি থেকে সরে আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।

তবে তারা তাদের কর্মসূচি পাল্টায়নি। ৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ (ঐক্যের জন্য যাত্রা) কর্মসূচি থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়।

এ লক্ষ্যে প্রতিদিনই জনমত তৈরিতে সারা দেশে প্রচারপত্র বিলি ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।