ভয় ধরানো চেহারার কারণে অডিশনে বাদ পড়েন অমরীশ পুরী

1736678526 26344be732f3bbb5530323ea1674f83a
১১

জবার মতো লাল চোখের অমরীশ পুরী পর্দায় হাজির হওয়া মানেই একরাশ আতঙ্ক। হিন্দি সিনেমার খলনায়ক চরিত্রের হিংস্রতা শানিত হয়েছিল তার চেহারার ক্রুরতার জন্য। অথচ সেই চেহারার কারণেই কেরিয়ারের শুরুর দিকে অমরীশ সুযোগ পায়নি সিনেমায়।

‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে পর্দায় মেয়ে কাজলকে নায়ক শাহরুখের হাতে সঁপে দিয়ে ‘যা সিমরন, জি লে আপনি জিন্দেগি’ জলদগম্ভীর কণ্ঠে অমর হয়ে যাওয়া সেই সংলাপ আজও কানে লেগে আছে।

রুক্ষ স্বর আর বুক কেঁপে ওঠার মতো চেহারা অমরীশের দীর্ঘ কেরিয়ারে সাফল্যের দুই রসদ। অথচ সেই চেহারা এবং কণ্ঠকে একদিন গ্রহণ করেনি বলিউড।

প্রথম বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছিলেন অমরীশের নাতি বর্ধন পুরী। তিনি জানান, হিন্দি সিনেমায় নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তার দাদু।

স্বপ্নপূরণ করতে একটানা চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। ২১ বছর বয়সে জীবনে প্রথম স্ক্রিন টেস্ট দিতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্ক্রিন টেস্ট দেওয়ার আগেই অমরীশের চেহারা এবং কণ্ঠস্বরের কারণে বাদ দিয়ে দেওয়া তাকে।

পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার অডিশন দিতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হন তিনি।

মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বলিউডের এক প্রখ্যাত পরিচালক নাকি অমরীশকে বলেছিলেন, এমন চেহারা নিয়ে তুমি কখনও নায়ক হতে পারবে না।

বারবার প্রত্যাখ্যান হওয়ার বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিলেও, হাল ছেড়ে দেননি অমরীশ। বরং তিনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন, ঠিক যে কারণগুলোর জন্য তিনি স্বপ্নের কাছে পৌঁছতে পারছেন না, সেগুলোকেই সফল হওয়ার কারণ বানিয়ে ছাড়বেন।

শেষ পর্যন্ত রূপালি পর্দায় নায়ক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর অমরীশের দু’টি চোখ খুঁজে নেয় অন্য লক্ষ্য।

বলিউডের চোখে তার দুর্বলতাগুলোকে ধীরে ধীরে নিজের শক্তিতে পরিণত করেন। নায়ক হওয়ার বাসনা ছেড়ে খলনায়কের খাতায় নাম লেখান তিনি। এরপর অবশ্য আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। হিন্দি সিনেমায় খলনায়কের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিলেন তিনি। ১২ জানুয়ারি ‘মোগাম্বো’র মৃত্যবার্ষিকীতে ফিরে দেখা তার সেই লড়াইয়েই পর্ব।