‘গণতন্ত্রকে ধরাশায়ী করার ষড়যন্ত্রেই তারা লিপ্ত’

৩৮
13

( জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী )

বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে যতই ষড়যন্ত্র করুক বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ রোধ করতে পারবে না।

 

তিনি বলেন, সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ‘মিথ্যা’লিখে তাকে গ্রেফতারের পথ তৈরি করেছিল।

 

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের কঠোর সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এখনো বসে আছে গণতন্ত্রকে ধরাশায়ী করতে।

 

সোমবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে সমর্থন করেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, কোনরকমে গণতন্ত্রকে ধরাশায়ী করে অসাংবিধানিক সরকার এলে তাদের কপাল খুলবে, সেই ষড়যন্ত্রেই তারা লিপ্ত। এদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। গণতন্ত্রকে এতটুকু ধরাশায়ী করা যায়, অগণতান্ত্রিক কিছু আসে তাদের কপাল খুলবে- সেই অবস্থা বাংলাদেশে কখনো হবে না।

 

শেখ হাসিনা বলেন, কথিত দুর্নীতির খবর সাপ্লাই করেছে ডিজিএফআই’র ব্রিগেডিয়ার আমিন ও ব্রিগেডিয়ার বারী, যারা শিক্ষক-ছাত্র-রাজনীতিবিদদের এত অত্যাচার করে গেছে, তাদের সঙ্গে কী এত সখ্যতা? ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম এবং প্রথম আলোর মতিউর রহমান কি এর জবাব দিতে পারবেন?

 

মাহফুজ আনামকে ডিজিএফআই এর সাবেক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জে. আমিন ও ব্রিগেডিয়ার বারীর স্টাফ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে লেখা থাকে নির্ভিক সাংবাদিকতা। ইংরেজী এবং বাংলা অর্থ্যাৎ ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো। নামগুলো সুন্দর। ডেইলি স্টার তো আকাশের তারা। আর প্রথম আলো-আলো ফুটেই বের হয়। কিন্তু তাদের কাজ হল অন্ধকারের কাজ। অন্ধকারের কাজ কি ডিজিএফআইয়ের তথ্য ছাপানো?

 

আমার প্রশ্ন এখানেই। এই যে লেখাগুলো ছাপানো হয় সেখানে তো কোন সূত্র নাই। মানুষ তথ্য পেলে তো একটি সূত্র লিখে দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এল আমরা ভাবলাম। তারা বুঝি একটি নির্বাচন দেবে। তারপর দেখি তারা চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় গেড়ে বসার ষড়যন্ত্র করছে।

 

তিনি বলেন, রাজনীতি করতে চাইলে, ক্ষমতায় যেতে চাইলে তারা রাস্তায় নামুক, জনগণের কাছে যাক। রাজনীতি করার এতো শখ, ক্ষমতায় যাওয়ার এতো শখ থাকলে- মানুষের ভোট নিয়ে আসুক।

 

টক-শো’র বিষয় অবতারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টক-মিষ্টি-ঝাল কথা, সেগুলো আসলে টকই হয়ে যায়। প্রতিনিয়তই আমাদের সমালোচনা করা হচ্ছে। আবার বলে, আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করছি। আমরা তো স্বাধীন গণমাধ্যমকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করি না।

 

মাহফুজ আনামকে নিয়ে ঘটনায় বিদেশিদের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের উপর  সরকার কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে না। ১৯৯৬ পর্যন্ত একটি মাত্র টেলিভিশন ছিল। আমি এসে উন্মুক্ত করে দিলাম। আজকে ৩২টি টেলিভিশন লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অতীতে রেডিও-টেলিভিশন বেসরকারি খাতে ছিল না। আমরা কিন্তু সেটা করিয়েছি। কেননা সেখানে ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থান হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, মিডিয়ার জন্য যত বেশি সুযোগ দিয়েছি, আমি তত বেশি ভিকটিম হয়েছি। দুটো পত্রিকায় ২০ বছর ধরে আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি হচ্ছে। তাই আমি জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পড়ি না।  ভাল কিছু লিখলেও শেষদিকে আমাকে খোঁচা দেবে। এ খোঁচা খেয়ে আমি আত্মবিশ্বাস হারাব। তবে পড়বো কেন?

 

এক এগারোর ঘটনা বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ওয়ান ইলেভেনে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে প্রথমেই আমার ওপর আঘাত আসে। আমি তো সরকারে ছিলাম না, বিরোধী দলে ছিলাম। তবে কেন প্রথমে আমাকে গ্রেফতার করা হলো।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এসে ভুল করেছে। সেই ভুলের খেসারত দেশের জনগণ দেবে না। রাজনৈতিক ভুলের খেসারত তাদেরই দিতে হবে। বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াওয়ের কারণে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারা দাঁড়াতে পারছে না। কারণ দেশের মানুষ জ্বালাও-পোড়াও পছন্দ করে না।

 

সংসদ নেতা বলেন, বিএনপি একটি জঙ্গী দল। বিএনপি-জামায়াত জোট একটি জঙ্গী সংগঠন। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে এরা এখনও সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যেই হত্যা, খুন, অস্ত্র, বোমাসহ ধরা পড়ছে তাদের সবার গোড়া খুঁজলে দেখা যাচ্ছে আগে হয় ছাত্রশিবির কিংবা ছাত্রদল করেছে। পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই কারণ তারা দিনরাত পরিশ্রম করে দেশকে রক্ষা করছেন।

 

যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা বেড়েছে। তাই যাদের একটি গাড়ি দরকার, তারা ২/৩টা গাড়ি কিনছে। এসব কারণেই যানজট বাড়ছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশ আমরা গড়বো, উন্নত করবো, আমরাই পারব- এটা মনে রেখেই সবাইকে চলতে হবে। আমরা যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। আমরা পারবো না কেন? আমরা কেন পরমুখাপেক্ষী হব? আমরা সবাই মিলে কাজ করলে দেশ দরিদ্র থাকার কথা না। কতটুকু দেশকে দিতে পারলাম, দেশের জনগণকে কতটুকু দিতে পারলাম- এটাই আমার রাজনীতি।

 

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আরেকজন জড়িত। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য মাঠে নেমেছিলেন। তার দেওয়া তালিকা নিয়ে একজন সম্পাদক লোক যোগাতে নেমেছিল। কিন্তু কেউ আসেনি। ওই ভদ্রলোককে আমিই মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতে দিয়েছিলাম। ব্যাংকের এমডি পদ আইন লঙ্ঘন করে ১০ বছর পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন। আইন লঙ্ঘন করলেন, মামলায় হারলেন- আর সব দোষ শেখ হাসিনার। এমডি পদ হারানোর ক্ষোভ পড়লো গিয়ে পদ্মা সেতুর ওপর। আমেরিকার বন্ধুকে দিয়ে অর্থ বন্ধ করালেন।

 

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলো। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম। এখনও সেই প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। একটি এমডি পদ হারানোর ক্ষোভের আগুনে জ্বললো আমাদের বাংলাদেশ। নোবেল পুরস্কার পেয়েও একটি এমডির পদ ছাড়তে পারেন না। ওখানে কী মধু আছে। এতো বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কারের তবে মর্যাদাটা কোথায় থাকলো?

 

‘অনেকেই ধারণা ছিল বিশ্বব্যাংকের কাছে সাহায্য না নিলে বুঝি বাংলাদেশ চলতেই পারবে না। কিন্তু বাংলাদেশে যে পারে সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে যতই ষড়যন্ত্র করুক।বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ রোধ করতে পারবে না।এই বিশ্বাস আমার আছে।’